বাজিতপুর নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:১৫ পিএম
বাজিতপুর নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে আজ মঙ্গলবার সকালে নিকলীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এগারো ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিলো সকালে ৯২ পারসেন্ট। গত তিন দিনে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ও নিকলীতে। টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া ও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা  হিম বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী,  ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া মানুষ ও যানবাহন চালকরা। গত সোমবার দিবাগত রাতে পৌর শহরের মুরগ মহলে শীত নিবারনের জন্য শ্রমজীবি মানুষেরা আগুন জ্বালিয়ে একটু শীত নিবারন করছে। এদিকে এ জেলার বাজিতপুর নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে শীতের আদ্রতা খুবই বেশি বলে আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। আজ ও গত তিন দিন ধরে হাওর এলাকার শ্রমজীবি মানুষ র্সূয দেখছে না। বিভিন্ন সড়ক, মাঠ ও নদীল ঘাটে ঘন কুয়াশাই ডেমে থাকার কারণে তাদের যানবাহন চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে সব বয়সের মানুষ গুরুত্বর্পূণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না।

সিএনজি চালক মোঃ বেলাল বলেন, ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে সিএনজি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না, তবু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, দীর্ঘ সময় স্টিয়ারিং ধরে রাখতে কষ্ট হয়। তারপরও দায়িত্বের কথা ও জীবিকার কথা ভেবে সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছি। ঘরে বালবাচ্চা না হলে, না খেয়ে মরবে। এই শীতে আমাদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে গেছে।

বৃদ্ধ জিলহজ মিয়া (৬৮) বলেন, এই কনকনে শীতে আগুনের পাশে না থাকলে শরীর টেকে না। বয়স হয়েছে, ঠান্ডা আর সহ্য হয় না। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শীত লেগেই থাকে। আগুন পোহানোই এখন একমাত্র ভরসা। তবুও কী করবো, জীবন তো থেমে থাকে না। এই শীতে বয়স্ক মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও দেখা যায়, তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ও অন্যান্য শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।  

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র বলছে, কুয়াশা বেল্টের প্রভাব অব্যাহত  থাকলে দেশের উত্তর পূর্ব অঞ্চলে চলমান কুয়াশা বেল্টের উপস্থিতি জানুয়ারী প্রথম সপ্তাহ  পর্যন্ত থাকতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে