বিরলে রাষ্ট্রীয় শোকে পতাকা উত্তোলন নিয়ে সাংবাদিককে হেনস্তা

এফএনএস (মোঃ আতিউর রহমান; বিরল, দিনাজপুর) :
| আপডেট: ১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
বিরলে রাষ্ট্রীয় শোকে পতাকা উত্তোলন নিয়ে সাংবাদিককে হেনস্তা

ঠিক শোকে মুহ্যমান যখন পুরো জাতি, তখন শোক পালন না করায় এ সম্পর্কে বক্তব্য নিতে যাওয়ায় ক্ষেপে উঠলেন এক প্রধান শিক্ষক। শুধু ক্ষিপ্ত হয়েই ক্ষান্ত হোননি বরং সাংবাদিকদের ধান্দাবাজ ও চান্দাবাজ বলে গালিগালাজ করতেও সামান্যতম দ্বিধাবোধ করলেন না তিনি। দিনাজপুরের বিরলের কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট মুঠো ফোনে জানতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হয়ে সাংবাদিকের ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে চরম ঔধ্যত্বপূর্ণ কথোপকথন ওই প্রধান শিক্ষকের মানসিক ভারসাম্যহীনতা কি-না এ নিয়ে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের ১ম দিন ৩১ ডিসেম্বর-২০২৫ বুধবার সাংবাদিকদের ধান্দাবাজ ও চান্দাবাজ বলে গালিগালাজ করায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিক মহলে।

বুধবার বিকাল ৩.৩০ মিনিটে বিদ্যালয় চত্ত্বরে গিয়ে বিরল প্রেস ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাদেকুল ইসলাম প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পারেন বিদ্যালয়ে কোন পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এসময় তিনি সহকর্মী জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ লুৎফর রহমানকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয় চত্ত্বরে অবস্থিত পতাকা স্ট্যানের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক এ বি এম মাহমুদুল কবীরকে তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে না পেয়ে আবারো বিকাল ৫ টা ৩৩ মিনিটে সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণের জন্য কল করলে খোঁজ নিয়ে তিনি পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে আবারো বিকাল ৫ টা ৫০ মিনিটে সাদেকুল ইসলাম কে ফোনকল করে প্রধান শিক্ষক এ বি এম মাহমুদুল কবীর বলেন আপনি আসেন নাই রে ভাই, আপনি ধান্দাবাজ আগে থেকেই ছিলেন। আমি আপনাকে দেখিনি, আমি আপনাকে বুঝা পাইছি। আপনার ছবিটা আমার রেকর্ড হইছে, দেখছেন তো। আপনি ওই আগে থেকেই ধান্দাবাজ ছিলেন। সাংবাদিকতা করে ধান্দাবাজি করার জন্য আপনি আসছেন এখানে। ওই লেখাপড়া আপনার মধ্যে নাই। সাংবাদিক কিভাবে করতে হয় ওই লেখাপড়া আপনার মধ্যে নাই। আপনি জানেন না সাংবাদিক কি জিনিস। কোন জিনিসটা সাংবাদিককে ফোন দিতে হয়, কিভাবে কথা বলতে হয়, কিভাবে জানতে হয় আপনি সেটাই জানেন না।

আপনাকে ফোন দেয়া আমার অপরাধ হয়েছে কি স্যার জানতে চাইলে, তিনি জানান অপরাধ কেনো হবে। আপনাকে কোন বিষয়টা বললাম আমি, আমি বললাম আপনি যদি স্ট্যানবাই আমাকে ফোন দিতেন, একটা কথা বলার ইয়াটা থাকতো। আপনি বললেন স্যার আপনার ওখানে পতাকা উঠে নাই, আপনার ওখানে পতাকা নাই, আপনার বক্তব্যটা কি। এটা কথা হইলো আপনার, আপনাকে বলবো আমি। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন আপনি স্ট্যান ছিলেন ওখানে। আপনি যদি ওখানে স্ট্যান থেকে আমাকে ফোন দিতেন আর বলতেন আপনার এখানে পতাকা নেমে গেছে আপনার বক্তব্য দেন, তাহলে হতো। তখন আমি আপনাকে বলতাম। আপনি আসে ৫ টার সময় আমাকে বলতেছেন পতাকার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

আমি অফিসে এসে আমার সংবাদ লিখার পর আপনার বক্তব্য চাইতে পারি কি-না জানতে চাইলে তিনি আবারো বলেন, আপনি ধান্দাবাজি নিউজ করেন সেটা সবাই জানে। শুনেন আপনি টের পাইছেন যদি একটা ঝরে বক মরে, তবে আমি ধান্দা মারবো! আপনি গোটা বিরল থানার যতগুলি স্কুল আছে বসে বসে খোঁজ নিছেন। ফোনকল করে ধান্দাবাজি করছেন।

এ বিষয়ে কেউ কোনদিন বক্তব্য শুনতে চায়। একটা শোক দিবসের দিন পতাকা উঠছে কিনা সেটা নিয়ে আপনি সংবাদ করতে চান। এটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুইন না। বললাম যে আমার স্কুলে ফুলটাইম পতাকা থাকে। আপনার প্রশ্ন শুনেই বুঝা যাচ্ছে আপনি একটা ধান্দাবাজ সাংবাদিক। আপনার ধান্দাগিরি বন্ধ হয়ে যাবে। এগুলো সংবাদ না। আপনি যেটা করেন এটা সংবাদ না। এটা চুলকায় ঘা করা, ধান্দা করা। আপনি কিভাবে সাংবাদিকতা করেন দেখে নিবো।

এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোড়ালো দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বিরলের সাংবাদিকবৃন্দ।