পোরশায় সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

এফএনএস (এম. রইচ উদ্দিন; পোরশা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
পোরশায় সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

চলতি রবি মৌসুমে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ৮ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষার গাছ ও আবহাওয়া ভাল থাকলে বম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবারে সরিষার ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় উপজেলার কৃষকরা ভাল দামও পাবেন বলে আসা করছেন। তারা স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে বারী সরিষা- ১৪, বারী সরিষা-১৭, বীনা-১১ ও টরী-৭ জাতের সরিষার চাষ করেছেন। গত বছর ফলন ভাল হওয়ার কারনে কৃষকরা বারী সরিষা- ১৪ বেশী লাগিয়েছেন বলে জানাগেছে। বারী সরিষা- ১৪ বিঘা প্রতি ৯-১০ মণ, বারী সরিষা-১৭ বিঘা প্রতি ১০-১১মণ, বীনা-১১ বিঘা প্রতি ৮-৯মণ এবং টরি সরিষা- ৭ প্রতি বিঘা ৬-৮ মণ হারে ফলন হতে পারে বলে কৃষকরা মনে করছেন। সরিষার বর্তমান বাজার দর ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ হলেও নতুন সরিষা ওঠার সময় এর দাম কিছুটা কমে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। কৃষকরা সরিষার ক্ষেত দেখে খুশি হলেও তারা দাম নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছেন। তবে বর্তমান বাজার দর থাকলে তাদের কোন সমস্যা হবেনা বলে জানান তারা। কোন কারনে দাম কম হলে সরিষা চাষ করতে যে খরচ হয়েছে তা মিটিয়ে নিজের কাছে অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না বলে মনে করছেন তারা। নিতপুর বৈদ্ধপুর গ্রামের সরিষাচাষী রুবেল, কালাইবাড়ি দয়ারপালের মসদুল, চকবিষ্ণপুরের তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ার জালুয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, ছাওড় লক্ষিপুর গ্রামের ইসমাইল ও শরিফুল ইসলাম জানান, তারা প্রত্যেকে ৫ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তাদের লাগানো সরিষার ক্ষেত খুব ভাল হয়েছে। তারা আসা করছেন ফলনও ভাল হবে। কিন্তু দাম ভাল হবে কিনা চিন্তা করছেন। তবে ভাল ফলনের পাশাপাশি দাম ভাল পেলে অনেকেই সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকবে বলেও তারা মনে করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর। এ উপজেলায় সরিষার চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন। আবহাওয়া ভাল থাকার কারনে সরিষা ক্ষেত খুব ভাল দেখা যাচ্ছে ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও জানান, সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য বছরের প্রথমেই কর্মপরিকল্পনা তৈরী করা হয়েছিল। এছাড়াও কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রদর্শনী খাতে সরিষা এবং সার দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে তারা নানান দিক নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে কৃষকেরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন এবং ভবিষ্যতে সরিষা চাষের প্রতি আরও আগ্রহ দেখাবেন সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।