চরভদ্রাসনে শীতবস্ত্র পায়নি দুস্থরা

এফএনএস (চরভদ্রাসন, ফরিদপুর) : | প্রকাশ: ৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
চরভদ্রাসনে শীতবস্ত্র পায়নি দুস্থরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গত ক’দিন ধরে হাড় কাপুনি শীতের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করে চলেছেন পদ্মা পারের বসতিরা। বরফ গলা শীত, তুষারাচ্ছন্ন বাতাস ও উত্তাপহীন দিন কাটিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলা পদ্মা পারের প্রায় পাঁচ হাজার ছিন্নমূল পরিবার। তীব্র শীতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব মজুর ও শ্রমজীবী পরিবার। তবুও এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে এক টুকরো কম্বল পায়নি বলে জানিয়েছেন শীতার্তরা। তাই রাত পোহালেই তারা সূর্যের আশায় তাকিয়ে থাকেন আসমানের দিকে। এক ফালি সূর্য কিরণই যেন পদ্মা পারের বসতিদের এখন শীতের চাঁদর। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলার ভাঙন কবলিত প্রায় ৫ হাজার পরিবার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পার এলাকায়, বিভিন্ন বেড়িবাঁধে, রাস্তার ধারে,ও উন্মুক্ত ফসলী মাঠের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে আশ্রয়ন গেড়ে বসবাস করে চলেছেন। এরা বেশীরভাগই শ্রমজীবি, মজুর ও জেলে পরিবার। গত ১৫ দিনে পদ্মা পারে বরফগলা শীতে যবুথবু বসতিরা। তাই বিভিন্ন রোগাক্রান্ত ও বৃদ্ধ শ্রমিক মজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীত নিবারনের মত এক টুকরো গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। এ বছর উপজেলায় তীব্র শীত বিদ্যমান থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র বা কম্বল অনুদান পায়নি বলে জানিয়েছেন শীতার্তরা। শনিবার দুপুরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারের বসতি নূরজাহান বেগম (৫৮) রাস্তার ধারে মৃদু রোদ্রে বসে জানায়, “এক সপ্তাহ পর একটু সূর্যের মুখ দেখেছি বিধার নাতি নাতকুর নিয়ে রোদ পোহাচ্ছি। সে আরও জানায়, শীতে এতো কষ্ট করলাম কিন্তু এ বছর আমাগো কেউ একটা কম্বলও দেয় নাই, আর কোনো চেয়ারম্যান মেম্বার আমাগো খবরও নিতে আসে নাই”। একই সময় সামচু শেখ (৫৫) বলেন, “পদ্মা পারে বরফের মতো শীতে রাতভর পুলাপান লইয়্যা জটলাবদ্ধ হয়ে পড়ে থাকি। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলে না, পদ্মা পারে বরফের গুড়ার মত বাতাস গায়ে এসে লাগে। শীতে জানই বাঁচে না, তাই মাঠে কাজ বন্ধ রাখছি। এখন পর্যন্ত কেউ একটা কম্বল দিয়েও আমাদের সাহায্য করে নাই”। একই দিন উপজেলার বালিয়া ড্ঙ্গাী গ্রামের পদ্মা পারের বসতি সাবেক ইউপি মেম্বার আঃ হক (৬০) বলেন, “এ বছর চেয়ারম্যান মেম্বাররা সরকারিভাবে যেসব কম্বল বরাদ্ধ পেয়েছেন তার একটা কম্বলও দুস্থদের মাঝে বিতরন করে নাই। সবই স্বজনদের মাঝে লুটে দেওয়া হয়েছে”। উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অফিস সূত্র জানায়, এ বছর শীত মৌসুমে উপজেলায় মোট দুই হাজার চারশত দশ পিচ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২শ’ পিচ করে চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের হাতে ৮শ’ পিচ কম্বল দেওয়া হয়েছে। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৩শ’ পিচ কম্বল নিজে ঘুরে ঘুরে বিতরন করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক কম্বল বিতরনে অনিয়ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন, “অত্র উপজেলায় আমি নতুন এসেছি। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বাররা সঠিকভাবে কম্বল বিতরন করেছেন কি-না তা আমি খোঁজ নিয়ে ব্যাবস্থা নিবো”। আর উপজেলার গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলী জানান, “আমার ইউনিয়নে ২শ’ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা বিতরনের জন্য ১২ জন মেম্বারদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে”। একই দিন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মা পারের এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম্বল বরাদ্ধ অপ্রতুল একথা সত্য। কিন্তু এই তীব্র শীতে একটি কম্বল একজন দুস্থ শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। তাই বরাদ্দটুকু সঠিক বিতরন হওয়া দরকার। কিন্তু উপজেলায় যাদের আছে ভুরি ভুরি, তারাই করলো দুস্থের কম্বল চুরি”।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে