ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, এর আগে আর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর কারাগার থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে ওই দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানির সময় আসামিপক্ষ বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানায়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত ফোনালাপ যাচাই করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষার আবেদন করা হয়। তবে ট্রাইব্যুনাল উভয় আবেদনই নাকচ করে দেন। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, যেদিন কারফিউ জারি করে গুলি চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়নি।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল জানান, সংশ্লিষ্ট সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আবেদনটি নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও নতুন করে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করে দেন চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো কারণে মামলার সময় বাড়ানো হবে না।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, ২০১৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কারফিউ জারি করে ছাত্র জনতাকে হত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর আবেদন জানানো হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে, আসামিপক্ষ বারবার সময় চেয়ে মামলাটি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ দেশের মানুষ জুলাই গণহত্যার বিচার দেখতে চায়। অথচ বিভিন্ন সাবমিশনের মাধ্যমে মামলাটি মিসগাইড করার চেষ্টা চলছে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদার জানান, আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৬ জানুয়ারি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আর কোনো সময় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ১৫ জনকে হত্যাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।