মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানো হলেও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের হ্যান্ডসেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং তা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের, বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এনইআইআর কার্যক্রমের বিরোধিতায় চলমান আন্দোলন এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, মোবাইল ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। বৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেটকেও নির্দিষ্ট শর্তে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও এনইআইআর বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও দোকানপাট বন্ধ রাখার কর্মসূচিকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী শুল্ক কমানো হয়েছে। তারপরও যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অপরাধের লাইসেন্স চাইতে চায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। এনইআইআর বন্ধ হবে না।”
এনইআইআর চালুর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, প্রতিবছর আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের প্রায় অর্ধেকই শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এর বড় অংশ নকল, কপি বা পুরনো সেট, যেগুলো কেসিং পরিবর্তন করে নতুন বলে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না।”
বিটিআরসি ভবনে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে এনইআইআর কার্যক্রমের প্রতিবাদে রোববার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এনইআইআর বন্ধ, পুরনো মোবাইল ফোন আমদানির অনুমতি, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে তারা আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে।
সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করে আন্দোলন চললে তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বৈধ ব্যবসা ও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় এনইআইআর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে সরকার কোনো ছাড় দেবে না।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে এনইআইআর কার্যক্রম চালু হয়। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা সরকারের মতে অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।