মনোনয়ন যাচাইয়ে বড় ঝাঁকুনি, জাপা ও স্বতন্ত্রে সর্বোচ্চ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
মনোনয়ন যাচাইয়ে বড় ঝাঁকুনি, জাপা ও স্বতন্ত্রে সর্বোচ্চ বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে বড় ধরনের ঝরঝরে পড়ার চিত্র সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টিরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

৩০০ আসনের বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই বাতিলের হার সবচেয়ে বেশি। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৪৭৮ জন। যাচাই বাছাইয়ে অন্তত ৩৫০ জন বাদ পড়েছেন, যা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ। মোট বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের প্রায় অর্ধেকই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই বাছাই শেষে মোট ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। এতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। জমা পড়েছিল ২ হাজার ৫৬৮টি।

দলভিত্তিক হিসাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন। দলটির ২২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফলে মাঠে রয়েছেন ১৬৭ জন। বিএনপির ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন বাদ পড়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জনের মধ্যে বাতিল হয়েছে ৯ জনের মনোনয়ন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ২২৭ জন। এছাড়া সিপিবি, এনসিপিসহ অন্যান্য দলগুলোরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণখেলাপি ও করখেলাপি হওয়া, বিলখেলাপি থাকা, মামলার তথ্য গোপন করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং আয়কর বিবরণী সঠিকভাবে জমা না দেওয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ছিল নিজ নিজ আসনে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষর ও তথ্যের গরমিল।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমীন মল্লিক রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে এই চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।”

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, বিএনপির বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেননি। একই আসনে দলীয় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়াও জটিলতা তৈরি করেছে।

বাছাই শেষে কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যাও কমে এসেছে। কয়েকটি আসনে দুই বা তিনজন প্রার্থী রয়েছেন, আবার ঢাকা-৫ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি)।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে