বিরামপুরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা

এফএনএস (মোস্তাফিজার রহমান মিলন; হিলি, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
বিরামপুরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক নাবালক ছাত্রকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে বিরামপুর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ জি এলবি আল মর্তুজা (১২) বিরামপুর থানাধীন হাবিবপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় দুই কিশোর জানায়, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মর্তুজাকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। পরে তাকে ডা. ইমার উদ্দিনের পারিবারিক কবরস্থানের পূর্ব পাশের বাগানে নিয়ে গিয়ে লোহার রড, এসএস পাইপ, বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ফোলা ও কালশিরা জখম হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মর্তুজার মুখ বেঁধে ভ্যানযোগে শোটাপীর কাচারী এলাকার নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি শিশুটির গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে রশিবাঁধা অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকেও হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করা হয়। আহত মর্তুজাকে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ও সন্দেহজনিত কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে