‘ভালো বীজে অধিক ফসল’-এই স্বপ্ন নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছিলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষকরা। কিন্তু চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিনের কনকনে ঠান্ডায় বীজতলায় দেখা দিয়েছে ‘কোল্ড ইনজুরি’ বা শীতজনিত রোগবালাই। চারা গাছ হলদে হয়ে মরে যাওয়া আর পাতা কোঁকড়ানো রোগে নষ্ট হচ্ছে শত শত হেক্টর জমির বীজতলা। সারয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সারিয়াকান্দিতে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। তবে সপ্তাহজুড়ে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং দিনভর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় বীজতলার চারাগুলো অকালে গোড়াপচা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা বলছেন আরো তিন থেকে চারদিন এমন শৈত্য প্রবাহ চলবে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সাদা পলিথিনে ঢাকা অনেক বীজতলা। আবার কোথাও পলিথিন ছাড়াই ধুঁকছে কচি চারা। তীব্র ঠান্ডায় চারাগুলোর সজীবতা হারিয়ে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে। অনেক জায়গায় চারা লম্বা না হয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। সারিয়াকান্দির যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নদীর অববাহিকায় ঠান্ডার তীব্রতা বেশি হওয়ায় সেখানে বীজতলার ক্ষতিও বেশি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং রোদ না উঠলে চারা রক্ষা করা কঠিন হবে। এতে বাজারে চারার সংকট দেখা দিতে পারে এবং বোরো চাষের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফুলবাড়ী মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, "বেশি ফলনের আশায় দামী বীজ কিনে উন্নত পদ্ধতিতে ১৬ শতাংশ বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু এই কয়েকদিনের জাঁকিয়ে বসা শীতে সব শেষ হতে চলেছে। স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করেও চারার তামাটে ভাব দূর করতে পারছি না। চারা যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে সময়মতো বোরো আবাদ শুরু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।" পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়া থেকে চারা রক্ষা করতে বিশেষ স্প্রে এবং যান্ত্রিক সুরক্ষার প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বীজতলাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে বাঁচাতে প্রতিদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতি শতক জমিতে ১০০ গ্রাম পটাশ, ৬০ গ্রাম সালফার কম্পাউন্ড এবং ৮ গ্রাম চিলেটেড জিংক মিশিয়ে স্প্রে করার জন্য কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।