আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, যেহেতু নির্বাচন ১১ দলের সমঝোতার ভিত্তিতে হচ্ছে, সরকার গঠনেও সেই জোটের শরিকদের অংশগ্রহণ থাকবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে একাধিক কর্মসূচি ও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতা খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ১০টি আসন দেওয়ার যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিশেষ দলের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “গত এক দুই সপ্তাহ ধরে যেভাবে একটি দলের প্রতি আনুগত্য দেখানো হচ্ছে, তাতে আশঙ্কা হচ্ছে আবারও একটি পাতানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না। এ ধরনের নির্বাচন হলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় হলেও সবার প্রতি সমান আচরণ না হলে জনগণের কাছে বৈষম্যের বার্তা যায়। “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যদি নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে একজনকে যে ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী পক্ষকেও অন্তত সেই মানের নিরাপত্তা দিতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিন সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যালয়ে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে বৈঠকেও নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে ডা. তাহের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “গত ৫৫ বছরে দেশের রাজনৈতিক সংকটের বড় কারণ ছিল সঠিক নির্বাচনের অভাব। এবারও যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, সংকট কাটবে না।”
জোট ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, “আমরা যদি মেজরিটি পাই, তখন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করতে খুব অসুবিধা হবে না।” তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকার হবে জোটভিত্তিক এবং অংশীদারদের নিয়েই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করা হবে, যা কার্যত একটি জাতীয় সরকারের রূপ নিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলটি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।