সাবেক ভূমি মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
সাবেক ভূমি মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চট্টগ্রাম: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসারকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। এরপর জাবেদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করে আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো ভুয়া প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে এবং বিদেশে পাচার করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় আসামিরা প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মোকাররম হোসাইন জানিয়েছেন, চার্জশিটভুক্ত ৩৬ জনের মধ্যে ৪ জন ইতোমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৩২ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। চার্জশিটে ৩৬ আসামি ও ৯২ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে আর কোনো দায়িত্বে দেখা যায়নি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জাবেদ ও তার পরিবার লন্ডনে পাড়ি জমান বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

মামলায় উল্লেখিত প্রধান আসামিরা হলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী রুকমীলা জামান (৪৬), ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও বোন রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)। এছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীও অভিযুক্ত।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তদন্তে বের হয়েছে, ইউসিবিএল চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে