সিমা আক্তার (২১) চাকরি করতেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরস্থ একটি থেরাপি সেন্টারে। এসময় তার সাথে পরিচয় হয় গৌরনদীর বার্থী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী মেহেদী হাসানের সাথে। একসময় পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে মেহেদী বিয়ের কথা বলে একটি স্ট্যাম্পে সিমার স্বাক্ষর নিয়ে কয়েকদিন পর বলেন তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে। এরপর থেকেই সিমার সাথে শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হয় মেহেদী। একপর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে যায় সিমা। বর্তমানে গর্ভে আট মাসের সন্তান নিয়ে মেহেদীকে স্বামী হিসেবে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিমা। এসব অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর ডাকযোগে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিমা। অন্যদিকে সিমার গর্ভে সন্তান আসার পরপরই মেহেদী হাসান গৌরনদীর বার্থী ইউনিয়ন ভূমি থেকে বদলী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় চলে যায়। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন প্যাদা ও জায়েদা খাতুন দম্পত্তির সন্তান। লিখিত অভিযোগে সিমা উল্লেখ করেন, তারা দুইজনই গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। তাদের দুইজনের মধ্যে পরিচয়ের সূত্রধরে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক পরে বিভিন্ন প্রলোভনে মেহেদী তাকে বিয়ে করতে রাজি করেন। এরপর একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কয়েকদিন পর তাকে (সিমা) দেখিয়ে বলেন-তোমার সাথে আমার কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে। পরে শারীরিক মেলামেশার মাধ্যমে আমার গর্ভে সন্তান আসে। বর্তমানে যার বয়স আট মাস। সিমা আরও বলেন-আমার পেটের বাচ্চার কথা বললে মেহেদী সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বাচ্চা তার না বলে নানা তালবাহানা শুরু করে। সিমা বলেন, আমার পেটের সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করানো হলেও সন্তানের বাবা হিসেবে মেহেদী আসবেন। তাই সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ ব্যাপারে মেহেদী হাসানের ব্যবহৃত তিনটি নম্বরের মধ্যে দুইটি বন্ধ পাওয়া গেলেও একটি নম্বরে কল রিসিভ করেন মেহেদীর মা জায়েদা খাতুন। তিনি বলেন, সিমার গর্ভে কোন সন্তান নেই। সে অর্থ সম্পদ নেয়ার ধান্ধায় মিথ্যা কথা বলছে। জায়েদা খাতুন আরও বলেন-মেয়েটি (সিমা) আমার ছেলের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি এলাকার অনেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানেন। বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।