মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা, বিচার ও ক্ষতিপূরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাঁচ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১০ পিএম
মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা, বিচার ও ক্ষতিপূরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাঁচ দফা দাবি

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা বিচার ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিতে একযোগে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের অভিযোগ, পাইলটের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়মের কারণেই এত বড় প্রাণহানি ঘটেছে।

গত বছরের ২১ জুলাইয়ের মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব ত্রুটি ও দায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে অর্থ উদ্ধার এবং সেই অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণ কার্যকর করার কথা বলেন তারা।

নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিও জানানো হয়। পরিবারগুলোর আরেকটি দাবি হলো, প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা করা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং নিহত শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে অনিয়ম ও দুর্নীতি না হলে বিমানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। পরিবারগুলোর দাবি, এসব ব্যর্থতার কারণেই পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। তারা মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাকেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লা আবেগঘন কণ্ঠে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ওই দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে এবং দ্বিখণ্ডিত হয়ে প্রাণ হারান। তাদের ভাষায়, বিশ্ব ইতিহাসে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত বেশি প্রাণহানির নজির নেই। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র সন্তান কিংবা একাধিক সন্তান হারিয়ে আজ নিঃসন্তান হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের এক অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ টাকা ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। একইভাবে ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেননি। তাদের বক্তব্য, অর্থের অঙ্ক নয়, আগে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার।

পরিবারগুলোর অভিযোগ, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ১১৮৪২/২০২৫ এবং বিভিন্ন সময়ে উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ন্যায়বিচার ও বিদেহী আত্মার শান্তি নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে