খেজুরের রস গ্রামবাংলার প্রকৃতিক একটি ঐতিহ্যবাহিক পানিয় খাবার। শীতের সকালে এক গ্লাস মিষ্টি রসের স্বাদ নিতে কার না ভাল লাগে। তাই শীত মৌসুমে এক গ্লাস খেজুরের রসের স্বাধ নিতে ছুটে আসে রস প্রেমী মানুষ। শীতকে উপেক্ষা করে ভোর কিংবা রাত্রিতে খেজুর বাগানে ছুটে আসে রসের স্বাদ নিতে। একসময় গ্রামের সব বাড়ীতে খেজুর গাছ থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় ইট পাথরের নগর সভ্যতার কারণে বনবাদাড়ের সব গাছগাছালির সাথে খেজুর গাছও কেটে ফেলার কারনে খেজুর গাছ শূন্য হয়ে পরেছে গ্রাম। গাছ না থাকার কারণে খেজুরের রসের অভাব দেখা দিয়েছে সর্বত্র। তাই যতটুকুই রস পাওয়া যাচ্ছে, এর স্বাধ নিতে খেজুর রস প্রেমিদের উচ্চ মূল্যে গুনতে হচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার দিয়াপাড়া গ্রামের জাকির ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামের মোঃ শহিদ মোল্লা বানিজ্যিক ভাবে বিক্রি করছেন খেজুরের রস। ২৫০ টাকা থেকে ৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে খেজুর রস। আর এই টাটকা রস পান করতে দুর দরান্ত থেকে ছুটে আসেন রস প্রেমীরা। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা জাকির দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ সোনারগাঁও পৌরসভার দিয়াপাড়া গ্রামে বসবাস করে ১২/১৪ টি গাছ কেটে খেজুরের রসের ব্যবসা করে আসছেন এবং একই এলাকার মোঃ শহিদ মোল্লা উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামে থেকে ২৭টি খেজুর গাছ কেটে প্রায় ৭/৮ বছর যাবৎ খেজুরের রস ব্যাবসা করে আসছেন। গাছিরা জানান, বাগানের রসের টানে আশেপাশের উপজেলা সহ রাজধানী ঢাকা এবং জেলা শহর নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রস খাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। গাছিরা মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা দুজনেই বাৎসরিক চুক্তিতে খেজুর বাগান ক্রয় করে খেজুর রসের মৌসুমি ব্যবসা করে আসছেন। খেজুর বাগান দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, রস প্রেমীরা রস কিনতে ভীড় করছেন। তরুণ ক্রেতারা মোটর সাইকেল এবং প্রাইভেটকার যোগে এসে বাগান থেকে টাটকা রস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রস কিনতে আসা ঢাকার মহাখালী এলাকার আল-হামজা খাঁন শামীম জানান, আধুনিক যুগে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছুই হাড়িয়ে যাচ্ছে। সোনারগাঁয়ে খেজুর রস পাওয়া যাচ্ছে এই খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এখানকার রসটা অনেক মজা। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে রস খেতে ভয়ও হয়। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা থেকে নয়ন মিয়া নামে এক যুবক বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সোনারগাঁয়ে রস পান করতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। তারা বলেন, সোনারগাঁয়ে রস পাওয়া যাবে খবর নিয়ে এসেছিলাম। তবে আমরা দেরিতে আসার কারণে আজ পাইনি। অন্য কোন একদিন সময় করে আবারও আসবো। গাছিরা জানান, ডিসেম্বর মাস থেকে রস নামানো শুরু করে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরও এক দেড় লাখ টাকার রস বিক্রি করতে পারবো। প্রতিদিন ২ বেলা গাছ থেকে রস নামাই। খুব সকাল বেলা আবার রাত ৯ টায়। এখন খেজুর গাছের সংখ্যা কম থাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মতো রস সাপ্লাই দিতে পারিনা। রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই তিন মাসের অপেক্ষায় থাকি। ডিসেম্বর হতে গাছের পরিচর্যায় কাজ করছি। সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, আমরা নিয়মিত খেজুর বাগানের কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বর্তমানে কৃষকদের তেমন কোন প্রনোদনা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবুও আমরা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।