মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে ধুলাবালিতে মাখামাখি অবস্থায় প্যাকেট করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা বিএডিসির পটাশ সার। বিএডিসি বলছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরেজমিনে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তেতৈতলা পুরাতন সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পাড়ে লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই গোবর ও ময়লার স্তূপ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না তারা। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, আজ তারা প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করেছেন। সারগুলোর আমদানিকারক নোয়াপাড়া গ্রুপ। প্যাকেট করার পর এই সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শরিফ হোসেন বলেন, "পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসে দেখি নদীর পাড়ে এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আমার ধারণা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত।" আরেক প্রত্যক্ষদর্শী তানিয়া আক্তার বলেন, "এভাবে সার প্যাকেট করা হয় এই প্রথম দেখলাম। সারের মান ঠিক না থাকলে তো জমিতে এই সার দিলে কাজ হবে না। কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি করা উচিত ছিল।" ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফারুক শেখ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, "সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে করে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, তা আমি বলতে পারব না।" ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, "আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি, তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো যথাযথ নিয়ম মানা সম্ভব হয়নি।" এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার কোনো সুযোগ নেই। এতে সারের মান নষ্ট হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" বিষয়টি সম্পর্কে বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান বলেন, "ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করার খবর পেয়ে আমি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"