রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে শনিবার গণমাধ্যম সম্মিলনে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির বললেন, “যারা দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন দিয়েছে, তারা জুলাইয়ের মৌল চেতনাকে ব্যবহার করে ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত। সমাজে ভিন্নমত, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে; এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নূরুল কবীর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা নয়। এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সেগুলোকে রাষ্ট্র, সরকার, আইনগতভাবে কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর জন্য নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এই সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন, তেমনি সম্মিলিত প্রয়াসগুলো গ্রহণ করার প্রয়োজন। সমস্ত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে গোটা সমাজের মধ্যে আমাদের এই চিন্তার সঞ্চার করতে হবে যে, সংবাদপত্র অপরাপর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ২০০, ৫০০ কিংবা ১০ হাজার সাংবাদিকের মনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবারই একমাত্র হাতিয়ার নয়। এগুলো যদি সচল না থাকে, সক্রিয় না থাকে, এগুলো যদি উচ্চকণ্ঠ না হতে পারে, তবে গোটা সমাজের মধ্যেই নানা ধরনের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য।”
‘গণমাধ্যমে এই হামলা এক ধরনের ট্রমা। হয়ত আমার মধ্যে সারাজীবন কাজ করবে। এই যে আক্রমণের ব্যাপারটা, বিশেষ করে ডেইলি স্টারের অফিসে যে আক্রমণটা, তা মোটেও একটা ভবনের ওপর আক্রমণ ছিল না। কারো যদি ক্ষোভ থেকে থাকে, তার কারণে সেই ভবন ভাঙা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর বিকাশের, সভ্যতার বিকাশের এই পর্যায়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় কয়েকজন সাংবাদিককে ভেতরে রেখে চারদিকে আগুন দেওয়া, দমকল বাহিনী আসতে বাধা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ এটা। আজকে এই দুই পত্রিকায় হামলা হয়েছে, কালকে অন্য কোথাও হবে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে আমি মনে করি, আমাদের এই সংঘবদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি’-উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “যে কোনো দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সেই সমাজের সার্বিক গণতান্ত্রিক বিকাশ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় এই ঘটনা সত্য যে, সবচাইতে বড় একটা বৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যেও এই মানুষের কণ্ঠস্বরকে বন্ধ করবার একটা প্রবণতা থাকে। দুটো পত্রিকা অফিসের মধ্যে একটাকে ভাঙচুর, আরেকটার মধ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু কীসের নামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো? দেড় বছর আগে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরতন্ত্রকে পরাজিত করলাম। একটা রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যখন আমরা লড়াই করছি, তখন এই গণমাধ্যমগুলো আক্রান্ত হয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে যারা ছিলেন, তারা জুলাইকে ব্যবহার করে জুলাইয়ের মূল চেতনা, জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ফলে এরকম একটা সময়ের মধ্যে আমাদের প্রত্যেকের সংঘবদ্ধতা দরকার।”