লক্ষ্ণীপুরে দিনব্যাপী বর্ণিল পিঠা উৎসব

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে দিনব্যাপী বর্ণিল পিঠা উৎসব

লক্ষ্ণীপুর শীতের মিষ্টি রোদে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছিল লক্ষ্ণীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শতাধিক স্টল নিয়ে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী বর্ণিল পিঠা উৎসব। এতে তিন শতাধিক ধরনের পিঠার সমাহার দেখা যায়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে স্কুল মাঠে এ পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।  এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে শীত মৌসুমে এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ফুলে সজ্জিত ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও লক্ষ্ণীপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। এ উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিরা। পিঠা উৎসবে সুকন্যাদের পিঠার দোকান’, নবান্নের পিঠা ঘর’ পিঠা অরণ্য’, ‘ঢেঁকির বৈঠকখানা পিঠা আড্ডা’সহ নানা নামের শতাধিক স্টল বসে।স্টলগুলোতে হৃদয় হরণ, পদ্মার ইলিশ পিঠা, পাটিসাপটা, ভাপা, নকশি, ঝুনঝুনি, শামুক, লতা, জামাই বরণ, ডাল পিঠা, তালের পিঠা, ক্ষীর পাটিসাপটা, নারিকেল বেলি পিঠাসহ তিন শতাধিক ধরনের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি হয়। পৌর প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন,পিঠা উৎসবের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবারও শহরে ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করি। এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরে পেয়েছি।” উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন,এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা শীতকালে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আসছি। অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরাই সব পিঠা তৈরি করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা জানায়, এই আয়োজন তাদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তারা পিঠা বানানো শিখেছে, নতুন নতুন পিঠার নাম জেনেছে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। পিঠা উৎসব দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন,প্রতিবছরই এই প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী আয়োজন করে। এবারও আয়োজন ছিল মনমুগ্ধকর। পরিবার নিয়ে এসে পিঠা খেয়েছি, কিনেও নিয়েছি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের উৎসব অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে