তালায় খেজুরের রস সংগ্রহ ব্যাহত

এফএনএস (মোঃ মুজিবুর রহমান; পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা) :
| আপডেট: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম | প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
তালায়  খেজুরের রস সংগ্রহ ব্যাহত

আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ও  গাছির অভাবে  সাতক্ষীরায় খেজুরের রস সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।  হারাতে বসেছে সাতক্ষীরায়  গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস ও খেজুরের গুড় ও পাটালি। আর এ কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। জানা যায়, আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে খেজুর রস সংগ্রহ, আর রস থেকে নানা ধরনের রসের পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শীত মৌসুমে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটান গাছিরা। তবে এবার বিরূপ আবহাওয়া ও  গাছির অভাবে খেজুরের রস সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। হারাতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস ও খেজুরের গুড় ও পাটালি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকতো কিন্তু বেশিরভাগ গাছ না কাটার ফলে  বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টনে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে কমে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটত। কিন্তু  বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তন।   গাছিরা সময়মতো গাছ কাটতে  না পারায়   অনেক কৃষকও আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন দিন দিন কমছে। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্পকে বাঁচাতে  গাছিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে খেজুরের রস গুড় উৎপাদন বেড়ে যাবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও। এতে গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এবং হারিয়ে যেতে বসা এই গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে