ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের দাবিতে বাড্ডায় সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের দাবিতে বাড্ডায় সড়ক অবরোধ

রাজধানীর বাড্ডায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে চলা এই অবরোধে অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বাড্ডার ফুজি টাওয়ারের সামনে মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন চালকরা। তাদের দাবি, সড়ক থেকে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে। শুরুতে মানববন্ধনের ঘোষণা থাকলেও একপর্যায়ে কর্মসূচি সড়ক অবরোধে রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, অবরোধের বিষয়ে আগে থেকে সড়ক বন্ধের কোনো ঘোষণা ছিল না। বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজহারুল ইসলাম বলেন, “ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনিতেই এলাকায় মেট্রোরেলের কাজ চলমান। তার ওপর সড়ক অবরোধে যানজটের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং চালকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।”

এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঢাকা বৃহত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত চিকন চাকার বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। বাড্ডা, রামপুরা ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। ট্রাফিক গুলশান বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফুজি টাওয়ারের সামনে মূল সড়ক বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তির কথা জানিয়ে স্থানীয় দোকানদার রাসেল বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তায় প্রচণ্ড চাপ থাকে। আজ গাড়ি একেবারেই চলাচল করতে পারছে না। দ্রুত সমাধান না হলে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হবে।” একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তৌহিদ। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে দীর্ঘ সময় আটকে আছি। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে যেন দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়, সেটাই চাই।”

কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে নগরবাসী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে