বাল্যবিয়ের তদন্তে গিয়ে ঘুষ দাবীর অভিযোগ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
বাল্যবিয়ের তদন্তে গিয়ে ঘুষ দাবীর অভিযোগ

বাল্যবিয়ের তদন্তে গিয়ে কনের বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবীর অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে।  বিষয়টি এলাকায় চাউর হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাঙ্গিলা গ্রামের। অভিযুক্ত ইউপি সচিব অবিনাষ বাড়ৈ বার্থী ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গিলা গ্রামের বাসিন্দা কনের বাবা দিনমজুর শহিদ খান অভিযোগ করে বলেন-গত শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য ছিলো। মেয়ের বয়স বয়স ১৬ বছর হওয়ায় প্রশাসন বিয়ে বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন-আমি প্রশাসনকে সম্মান জানিয়ে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবোনা মর্মে মুচলেকা দেই। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারটার দিকে আমার বাড়িতে আসেন বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অবিনাষ বাড়ৈ।  এসময় আমার মেয়েকে আবার বাল্যবিয়ে দিছি কিনা জানতে চান। মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেই নাই জানিয়ে তার সামনে হাজির করার পরেও আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবী করেন।  পরবর্তীতে আমি তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পাই। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সচিব অবিনাষ বাড়ৈ বলেন-প্রশাসন বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার পরেও কনের বাবা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে মর্মে সংবাদ প্রাপ্তির পর ওই বাড়িতে যাই।  পরবর্তীতে সত্যতা না পাওয়ায় চলে আসি। সেখানে কোন টাকা পয়সার লেনদেন হয়নি। বার্থী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার জানিয়েছেন-ইউএনও’র নির্দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রবিবার কাউকে না জানিয়ে ইউপি সচিব অবিনাষ ওই বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর এক ইউপি সদস্য তাকে পাঁচশ টাকা দেয়। কিন্তু ইউপি সচিব দুই হাজার টাকা দাবী করেন।  এতে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পরলে কৌশলে সে (ইউপি সচিব) সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে বলে শুনেছি।  তিনি আরও বলেন-ইউপি সচিব অবিনাষের কারনে ইউনিয়নের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তার শাস্তিসহ অন্যত্র বদলীর দাবী করছি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন-বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছিলো। তবে কাউকে তদন্তে পাঠানো হয়নি। ওই ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে