বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অভিযোগের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এই চারটি রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চার দলের প্রধানদের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনি প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও উল্লিখিত চারটি দল প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮-এর সরাসরি পরিপন্থি।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কিংবা কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী ভোটের উদ্দেশ্যে প্রচারণা, পোস্টার, ব্যানার, সভা-সমাবেশ বা জনসংযোগমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেনি, তবু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে-যা নিয়ে আপত্তি তোলে বিএনপি।
বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু দল আগাম প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনি পরিবেশে অসমতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থি।
সতর্কবার্তার পরও যদি কোনো দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পথ খোলা থাকবে বলেও জানায় ইসি।