সৈয়দপুরে রেলপথে ঝুকিতে ট্রেন চলাচল

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
সৈয়দপুরে রেলপথে ঝুকিতে ট্রেন চলাচল

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাথর বিহীন রেলপথে অত্যন্ত ঝুকিতে চলাচল করছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। ট্রেন চলাচলের সময় দেখা যায় রেললাইন ওঠা নামার দৃশ্য। মনে হয় এই বুঝি ট্রেন লাইন থেকে বিচ্যুত হল। রেলপথে পাথর না থাকায় ওই অবস্থার সৃষ্ঠি হয়। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকা করছেন অনেক ট্রেন যাত্রী। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করলেও কোন মাথা ব্যথা নেই দায়িত্বে থাকা কর্তার। সৈয়দপুরে রেল অবকাঠামোর তেমন উন্নয়ন নেই। অব্যবস্থাপনা যেন গ্রাস করছে রেল খাতকে। এখন নেই কোন যাত্রী নিরাপত্তা। সৈয়দপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলপথের একটি অংশে ব্যালাস্ট (পাথর) প্রায় নেই। এমতাবস্থায় ট্রেন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ লুপলাইন। যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনেও। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ দিকে প্রায় ৫০০ গজ এলাকাজুড়ে রেললাইনের নিচে ও পাশে  পাথর নেই। পাথর না থাকায় লাইনের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ প্রতিদিন এ পথে আটটি টুেন ঢাকা,খুলনা ও রাজশাহী যাত্রী বহন করে। রেলওয়ে স্টেশন সুত্র জানায়, স্টেশন এলাকার রেলক্রসিং থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রেললাইনের যন্ত্রাংশগুলো কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও স্লিপার ভাঙা, কোথাও ক্লিপ ও নাট-বল্টু নেই, আবার কোথাও রেলজয়েন্টে ফাঁক তৈরি হয়েছে। সামান্য গতিতে ট্রেন চললেও এসব জয়েন্টে অস্বাভাবিক কম্পন দেখা যায়। রেললাইনের এই দুরবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে লুপলাইনগুলোর ওপর। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব লাইন বর্তমানে মালবাহী ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে ভারত থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা বলছেন, এই রেলপথে চলার সময় ট্রেন অনেক জায়গায় দুলে ওঠে, যা যাত্রাকে আতঙ্কজনক করে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ট্রেন চলাচলের সময় বিকট শব্দ ও কাঁপুনির কথা উল্লেখ করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের বড় একটি অংশ তাদের অধীনে থাকলেও নির্দিষ্ট অংশে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে পাথর সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হলে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মালবাহী ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে