সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ১০ দলীয় জোটের ভেতরে অস্বস্তি ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। জোটগত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এই দুই আসনে জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২১ জানুয়ারি ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন ১০ দলীয় জোটকে ছাড় দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে জোটের ভেতরে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোট থেকে নেজামী ইসলামী পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাওলানা মোজাম্মিল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। বরং ২২ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা তোফালে আহমদকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ১০ দলীয় জোট বাংলাদেশ খেলাফত ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ২২ জানুয়ারি তাকেও ‘ইগল পাখি’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ এবং জোট প্রার্থী মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর মধ্যে। এ অবস্থায় এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম নির্বাচনে সক্রিয় থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর বিজয়কে সহজ করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতি ভোটারদের মাঝেও আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, জোটগত শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সমঝোতার অভাব থাকলে নির্বাচনী ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী ভোট বিভক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের এই দুই আসনে ১০ দলীয় জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত এই বিভাজন ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা।