উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেটে দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তা আমরা সবাই দেখেছি।” সিলেট থেকে ঢাকার মহাসড়কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রচারের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “ব্যালট ছিনতাই, আমি-ডামি আর নিশিরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল।” এসবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আগে ভোট ডাকাতি করেছে, তারাই আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ভেতর ও বাইরে বসে একটি মহল এখনো সক্রিয়। “যেভাবে আগে মানুষের ভোট ডাকাতি করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে,” বলেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিন, করব কাজ, গড়ব দেশ।” একই সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
বক্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি কারিগরি ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।
এই জনসভার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে সিলেট থেকেই প্রচার শুরু করার বিষয়টি উল্লেখ করেন নেতারা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের সড়ক ও ফুটপাতেও অবস্থান নেন অনেকে।