১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা

দেশীয় বস্ত্রশিল্প টিকিয়ে রাখতে কার্যকর সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, টানা লোকসান, ঋণের চাপ ও নীতিগত সহায়তার অভাবে মিল চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিটিএমএর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে এবং এই সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা মিল মালিকদের নেই। তাঁর ভাষায়, “আমাদের পুঁজি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। সব সম্পত্তি বিক্রি করলেও দায় শোধ করা যাবে না। এই অবস্থায় কারখানা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।”

তিনি অভিযোগ করেন, সংকট নিরসনে গত এক বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিয়েও কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। “সবাই একে অন্যের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপাচ্ছে। বাস্তবে কোনো নীতিগত সহায়তা আসছে না,” বলেন বিটিএমএ সভাপতি। শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত না এলে পুরো খাত আরও গভীর সংকটে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে পোশাক খাত থেকে, আর সেই খাতের প্রধান কাঁচামাল সুতা। কিন্তু কম দামে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সুতা আমদানি হওয়ায় দেশীয় উৎপাদন বাজার হারাচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলেন, মান ভালো হলেও দেশীয় সুতার ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

বিটিএমএর পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা সচিবালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বারবার গিয়েছি। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছে না। আমরা এখন আইসিইউতে, আর তারা দেখছে কখন আমরা মারা যাব।”

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বন্ড সুবিধা বাতিল না করলে স্পিনিং মিলগুলো টিকে থাকা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে খাত বাঁচাতে ১০ শতাংশ সরকারি প্রণোদনার দাবি জানান উদ্যোক্তারা।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “বেঁচে থাকার জন্য এবং বিদেশি সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে এখনই ১০ শতাংশ প্রণোদনা দরকার। টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ ও পোশাক খাত একে অপরের পরিপূরক।”

তিনি আরও বলেন, প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট লোকসান গুনতে গুনতে উদ্যোক্তাদের পুঁজি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। অনেকেই তুলা আমদানির সক্ষমতা হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই খাতে ২২ থেকে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা অচল হয়ে গেলে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ এবং কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা আসবে।

বিটিএমএ সভাপতির অভিযোগ, একদিকে করপোরেট কর, টার্নওভার কর ও ভ্যাটের চাপ, অন্যদিকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত মিলিয়ে সরকারের শিল্পনীতিতে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তিনি বলেন, “এর অর্থ দাঁড়ায় দেশে সুতা উৎপাদনের দরকার নেই। বাইরে থেকে আমদানি করলেই চলবে। এটা কী ধরনের শিল্পনীতি?”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বলেন, জিডিপিতে বস্ত্র খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ হলেও এই সংকটে সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁদের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে ১ ফেব্রুয়ারি, রোববার থেকে দেশের সব টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে