ফরিদপুরের ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফিরোজ মিয়া গ্রেফতার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ফরিদপুরের ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফিরোজ মিয়া গ্রেফতার

গত ০১ জানুয়ারি সকাল ০৮টার সময় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানাধীন ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে অবস্থিত ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের উত্তর পাশে ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় স্থানীয় জনগণ একজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি মরদেহটির গলা কাটা ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও নৃশংস হিসেবে প্রতীয়মান করে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপরতা বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) তারিখ রাত আনুমানিক ২৩.৫০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল, র‌্যাব-১২ এর সহযোগিতায় এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়া (৩৭), পিতা- লাল মিয়া, সাং- মধ্যগজদিয়া, থানা- নগরকান্দা, জেলা- ফরিদপুর’কে সফলভাবে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির পরিচয় আলী মোল্লা (৩৪)। গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে তিনি আসামি ফিরোজ ও তার শ্যালক মমরেজের সঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় অবস্থিত কৃষ্ণচূড়া ফিড মিলে যান। সেখানে ট্রাকের মালামাল আনলোড করার পর তারা বিভিন্ন স্থানে মালামাল লোড ও আনলোডের কাজ করেন। পরবর্তীতে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে আসামি ফিরোজ ও মমরেজ মদের বোতল সংগ্রহ করে এবং কৌশলে আলী মোল্লার পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। একসঙ্গে মদ্যপানের একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করেন এবং পরে অচেতন হয়ে পড়েন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর আসামীদ্বয় তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে হাত-পা বাঁধার কারণ জানতে চাইলে আসামিদ্বয় স্কচটেপ দিয়ে তাঁর মুখ আটকে দেয়। এরপর তারা আলী মোল্লার ওপর বসে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে, যার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ০১ জানুয়ারি  ভোর রাত ০৪টার সময় ট্রাক থামিয়ে আসামিদ্বয় নারায়ণখালী ব্রিজের নিচে গিয়ে নিহতের গলায় গুরুতর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহটি ব্রিজের ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় ফেলে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আসামি ফিরোজ ও মমরেজ নিহত আলী মোল্লার কাছ থেকে টাকা পেত। পাশাপাশি মমরেজের ভাগ্নী অর্থাৎ তার বোনের আগের ঘরের মেয়ের সঙ্গে আলী মোল্লার একটি অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং এ সংক্রান্তে আপত্তিকর ভিডিও আলী মোল্লা ধারণ করেছিলেন। এসব কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিদ্বয় তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ফিরোজ মিয়া (৩৭)’এর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের ০২ টি মামলাসহ মোট ০৬ টি মামলা রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামী’কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে