নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে কোনো ধরনের অপমান বা অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। নারী ও পুরুষ মিলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি নিজ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা যেন সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে চলাচলেও তাদের নিরাপত্তায় জামায়াত অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “মেহেরবানি করে মায়েদের ইজ্জত নিয়ে কখনও টান দেবেন না। সব সহ্য করব, কিন্তু মায়েদের ইজ্জতের বিষয়ে কিছুই বরদাশত করা হবে না।”
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কেউ মায়ের বাইরে জন্ম নেয়নি, ফলে সবাই মায়ের কাছে ঋণী। সেই মায়েদের সম্মানের জায়গায় রাখাই তাদের রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ইনসাফ বা ন্যায়বিচার না থাকায় দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচার বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, “ইনসাফ থাকলে ব্যাংক ডাকাতরা দেশ থেকে পালাতে পারত না, বিদেশে বেগম পাড়া বানাতে পারত না।”
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি করের বাইরে যে বেসরকারি কর বা চাঁদা আদায় করা হয়, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি রাস্তার পাশে ভিক্ষা করা মানুষকেও চাঁদা দিতে হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে ১০ দলীয় জোটকে বিজয়ী করা।”
কার্ড দিয়ে সহায়তার রাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কোনো ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছেন না। তাঁর মতে, “দুই হাজার টাকা দিয়ে কোনো পরিবারের সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। ফ্যাসিবাদের ছায়া মানুষ আর দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াত আমিরকে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের আমির নন, বরং ১০ দলীয় ঐক্যের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং মজলুম জননেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে সারা দেশে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে, তার ফলাফল আগামী নির্বাচনে জনগণ দেখতে পাবে।
জনসভায় জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ১০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই মিছিল, স্লোগান ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের উপস্থিতিতে মিরপুরের পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।