রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বাসকাউন্টারে যাত্রী ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল মোবারাকা বাস কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী যাত্রীর নাম পরিচয় যানা যায়নি এবং ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসকাউন্টার এলাকায় এক যাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে কয়েকজন দুর্বৃত্তের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাল বৃত্ত চিহ্নিত দুইজনসহ কয়েকজন মিলে ওই যাত্রীকে মারধর শুরু করে। এ সময় বরিশালগামী সাংবাদিক মো.হোসেন ঘটনাটি দেখে প্রতিবাদ জানান এবং ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার ওপরও অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় আশপাশে থাকা কাউন্টারকর্মী ও অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।= ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য আমার বড় ভাইসহ হানিফ পরিবহন কাউন্টার থেকে টিকেট ক্রয়ের পর বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় পাশে থাকা আল মোবারকা পরিবহন কাউন্টারের একজন স্টাফ কর্তৃক এক যাত্রীকে মারধর করতে দেখতে পাই। প্রথমে আমি বাঁধা প্রদান করি, এতেও কাজ না হলে আমি মারামারির ভিডিও ধারণ করতে থাকি। এতে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ও আমার বড় ভাইয়ের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এসময় যাত্রাবাড়ী থানার ওসির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার পরেও সে ফোন রিসিভ করেননি। পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্বরত র্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডারকে ফোনে বিষয়টি জানানো হলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ বিষয় র্যাব-১০ এর সিনিয়র এএসপি হাসান বলেন-ঘটনাস্থলে র্যাবের একটি টহল টিম পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের খুঁজে গ্রেপ্তার করা হবে। অপরদিকে এ ঘটনার পর যাত্রী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বাসকাউন্টার এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হামলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পেশাগত নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসযাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।