ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্যদিয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা এবং দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় সকালে মুক্তাগাছা হাজী কাসেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে সেনাবাহিনী কর্তৃক আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। পরে তিনি চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সেবা নিতে আসা রোগিদের সাথে কথা বলেন। এই ক্যাম্পেইনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে মোট ২৫০ জন দরিদ্র ও দুস্থ চক্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে চক্ষু ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জিওসি মুক্তাগাছার সত্রাসিয়ায় অবস্থিত ময়মনসিংহ সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে আয়োজিত অপর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি এলাকার ৫০০ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন। কনকনে শীতে সেনাবাহিনীর এই উপহার পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা ও আনন্দ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে জিওসি মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। এসময় জিওসি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশপ্রেমে অটুট থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছে। আসন্ন নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠু শন্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছে। এসময় সেনাবাহিনীর ৭৭ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালিক সামস উদ্দীন মুহাম্মদ মঈন, এসজিপি, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসিসহ ঘাটাইল অঞ্চলের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ জিওসির সঙ্গে ছিলেন।। সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং উপকারভোগীরা তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।