আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী মহানগরের কাটাখালি পৌর এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহকারী সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা–মোহনপুর আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
গণসংযোগকালে জনগণের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে যেভাবে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিরাপদ ছিল, ঠিক সেভাবেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতেও দেশের পতাকা নিরাপদ থাকবে। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরুর আগে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন কাপাসিয়া সরদারপাড়া গোরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এরপর নির্বাচনী সভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ও সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পবা ও মোহনপুর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের উন্নয়নে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেই পথ অনুসরণ করেই নারীদের ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিবারে নারীদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারিবারিক কার্ড নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি কার্ড প্রদান, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
মিলন বলেন, রাজশাহী একটি কৃষিনির্ভর জেলা। পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য রাজশাহীতে একটি কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কলকারখানা স্থাপন, কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, কাটাখালি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হক, সদস্য সচিব নাজমুল হক, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আকুল হোসেন মিঠুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
এদিকে বিএনপির গণসংযোগকে ঘিরে কাটাখালি পৌর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। ছোট শিশু থেকে শুরু করে গৃহিণী ও বৃদ্ধ—সবাই মিলনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।