চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নে দিনে দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও দানশীল পরিবারের খরিদকৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ইউনিয়নের উত্তর গুলিশা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম তালুকদার জামে মসজিদ ও এতিমখানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হাফেজ আহম্মদ হাওলাদার, রিয়াদ হাওলাদার ও জিহাদ হাওলাদারের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক জড়ো করে মো. আলতাফ হোসেন তালুকদারের ক্রয়কৃত ৬৭ শতক জমিতে জোরপূর্বক টিনের বেড়া নির্মাণ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান মো. আলতাফ হোসেন তালুকদার। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী মো. আলতাফ হোসেন তালুকদার জানান, তিনি ২০০২/২০০৩ ও ২০০৪ সালে মজিদ মোল্লার কাছ থেকে তিনটি দলিলে মোট ৬৭ শতক জমি ক্রয় করেন। এর পর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণ ভাবে ওই জমিতে ভোগদখল করে আসছেন। এদিকে জুলাই অভ্যূথানের পর গত ছয় মাস ধরে হঠাৎ করে স্থানীয় হাফেজ আহম্মদ হাওলাদার, রিয়াদ হাওলাদার ও জিহাদ হাওলাদার তার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বিএস খতিয়ান তাদের নামে করে এই জমি তাদের বলে দাবী করছে। এ বিষয়ে মো. আলতাফ হোসেন তালুকদার বিএস খতিয়ানের সংশোধন চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আজকে সকাল আটটার দিকে প্রায় শতাধিক বহিরাগত লোক এনে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখল করে বাউন্ডারি দিয়েছে। এসম বাধা দিলে তারা হত্যার ভয় দেখায়। মো. আলতাফ হোসেন তালুকদার আরো জানান, আমরা শান্তিপ্রিয় নিরীহ মানুষ। আমাদের পরিবারে অনেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছে। আমরা এলাকায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ মাদ্রাসা ঈদগাহ,প্রাইমারি স্কুল হাই স্কুল কলেজ করেছি। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই জোরপূর্বক আমাদের জন্য দখল করাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা চাঁদপুরের প্রশাসন এবং মহামান্য আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজ হাওলাদার বলেন, আমরা কারো সম্পত্তি দখল করিনি। এটি আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি।এই সম্পত্তি আমাদের আগেই দখলে ছিল। আজকে সেখানে আমরা টিনের বাউন্ডারি দিয়েছি। উল্লেখিত জায়গা দখলকারীরা হলেন- ফারাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক মরহুম রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাই ভাতিজা।