ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার তৃতীয় দিন। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণা ততই তুঙ্গে উঠছে। প্রার্থীগণ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, বিগত দিনের সাংসদ সদস্যদের সমালোচনার মধ্যে দিয়ে চলছে মুলত প্রচার-প্রচারনা। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে বৈধ ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মো. শরিফুল ইসলাম (এলডিপি) তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮জন প্রার্থী। কিন্তু মাঠে চলছে প্রচার- প্রচারণায় রয়েছেন মুলত চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন সরদার। অন্য চারজন প্রার্তীকে এখও মাঠ দেখা যায়নি। তারা হলেন পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মো. কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), মোছা. ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), মো. রমজান আলী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)। জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বামডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক করেছেন। এছাড়া গত শুক্রবার সকালে তিনি উপজোর শ্রীপুর ও ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী পথসভা করেন। দুই বারের এই সাবেক সাংসদ বলেন, তিনি আবারও এমপি নির্বাচিত হলে উপজেলার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন, সাধারন জনগণের জন্য সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। তাঁর নির্বাচনী জনসভায় সাধারন ভোটারদের ব্যাপক সারা লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারন সম্পাদক বলেন, এই আসনটি জাতীয় পাটির ছিল আবারও জাতীয় পাটি ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের হালচিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন ১৯৭৩ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিল আওয়ামীলীগ। ১৯৭৯সালে আইডিয়াল নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ হতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পাটির হাফিজুর রহমান প্রামানিক এবং মো. ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা এমপি ছিলেন। ২০০১ সালে জামায়াতের আব্দুল আজিজ সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ফের জাতীয় পাটির আব্দুল কাদের খান এমপি হন। ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি নির্বাচিত হলে, ২০১৬ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ২০১৭ সালে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের গোলাম মোস্তফা আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন। তিনি মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে ২০১৮ সালে জাতীয় পাটির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংসদ নির্বাচিত হন। এর পরবর্তীতে ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় পাটির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনে এই আসনটি উন্নয়ন বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে বৈষম্যদুর করে উন্নয়ন সাধিত করবেন। প্রচার-প্রচারণায় জামায়াতের প্রার্থী এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে। জামায়াত দীর্ঘ এক বছর ধরে বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী বলেন, বিএনপি এবারে সরকার গঠন করবেন ইনশাআল্লাহ। সেজন্য ধাণের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করলে এই আসনটির উন্নয়ন শতভাগ সম্ভব। তিনি উন্নয়ন মুলক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের মাঝে জনসংযোগ চালিয়ে
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোন্তাফা মহসিন সরদার, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথসভা করছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের মাঝে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের সাধারন ভোটার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পাটির প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমানে। তবে দিন যত ঘনিয়ে যাচ্ছে ভোটের মাঠ জমিয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে লড়াই ত্রিমুখী হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন। রামজীবন ইউনিয়নের সাধারন ভোটার জহুরল ইসলাম বলেন, জাতীয় পাটির প্রার্থী একজন দেশের পরিচিত মুখ। তিনি ভাল কথা বলতে পারেন। তিনি এর আগে এমপি ছিলেন, তার কিছু দোষত্রুটি থাকতে পারে। তিনি কেবলমাত্র মাঠে নামিল দেখা যাক কি হয়। তবে এই আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপি, জাতীয় পাটি এবং জামায়াতের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোট সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৩ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ জন, এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি। মোট কক্ষের সংখ্যা ৭৭৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৭০৫টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৬৮টি।