ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে দশদলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সামনে ইশতেহারে তিনি নগরীর চরাঞ্চলসহ সদরের উন্নয়নে মোট ২১টি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। ইশতেহার ঘোষণায় মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইশতেহারে ২১টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় ছিল- শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং নৈতিক-সমাজবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা, ময়মনসিংহ সদরে একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, পথশিশু, বন্ধি ও নিম্ন আয়ের এলাকাগুলোতে মোবাইল স্কুল বা মিনি স্কুল চালু করা, ক্বওমী মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবহেলিত চরাঞ্চলের যেখানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়/ইবতেদায়ী মাদরাসা স্থাপন, পরাণগঞ্জ হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধিকরে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণসহ সকল ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ, য়মনসিংহ নগরীর রেললাইনের দুই পাশের খালি জায়গা অবমুক্ত করে সড়ক পথ চালু করা, ময়মনসিংহ-সিলেট, ময়মনসিংহ-রাজশাহী রেল যোগাযোগ এবং ময়মনসিংহ-ঢাকা অফিস টাইম ট্রেন চালুর উদ্যোগ, ময়মনসিংহ ঢাকা ডুয়েলগেজ ডাবললাইন রেল স্থাপনের উদ্যোগ, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বহ্মপুত্র নদের দুই পাশের বেড়িবাঁধকে বিকল্প রাস্তা হিসেবে উন্নয়ন করা, শম্ভুপাট কলকে পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ, উদ্যোক্তা তৈরীর লক্ষ্যে নারীদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ স্কিল ট্রেনিং (টেইলারিং, আইটি, হোম কেয়ার সার্ভিস, অনলাইন ব্যবসা ইত্যাদি) চালু করা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং ও সাইবারবুলিং প্রতিরোধে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ও প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধের উদ্যোগ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা প্রদান, ময়মনসিংহ শহরকে সবুজায়ন ও একাধিক শিশু পার্ক স্থাপন করা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে একটি আর্ন্তজাতিকমানের স্টেডিয়াম ও একটি মাল্টিপারপাস ইনডোর স্টেডিয়াম, নিয়মিত জনগণের সাথে "সরাসরি সংলাপ চালু, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে জেলা জামায়াত সেক্রেটারী মোজাম্মেল হক আকন্দ, মহানগর জামায়াত সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ্ কায়সার, সহকারি সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, অফিস বিভাগের সেক্রেটারি খন্দকার আবু হানিফ, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি আব্দুল বারী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ দশদলীয় জোটের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।