নওগাঁর আত্রাইয়ে নিখোঁজের ১৯মাস পর মাটির নিচ থেকে সুমন প্রামানিক (৪৩) নামে একজনের কংকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধায় উপজেলার কয়সা গ্রামের একটি ডোবা থেকে এই কংকাল উদ্ধার করা হয়। সুমন ওই গ্রামের সাহাদত আলীর ছেলে। তাকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যার পর ডোবার মধ্যে মাটিতে পুথে রাখে ওই গ্রামের আজিজারের ছেলে শফিউল ইসলাম (২৫) ও তার ভাই সাইম হোসেন। এঘটনায় শফিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শফিউলকে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ও সুমনের পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, ২০২৪ সালের ২০জুন দিবাগত রাত অনুমান সাড়ে ১০টা নাগাদ শুধুমাত্র লুঙ্গী পরে ঘাড়ে গামছা এবং হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয় সুমন। এর পর রাতে আর বাড়ীতে ফেরেনি। পরের দিন বাড়ীর অদুরে রাস্তায় এবং ইটের টুকরোতে জমাট বাধা রক্ত দেখে পুলিশে খবর দেয়া পরিবারের লোকজন। এর পর থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে আলামত হিসেবে ইটের টুকরো, রক্ত নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এঘটনার মাত্র ২দিনের মাথায় ২২জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। এর পর ডিএনএ রির্পোট আসার পর গত বছরের ১৫নভেম্বর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সুমনের স্ত্রী বুলি বিবি। শুক্রবার সন্ধায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মো: তারিকুল ইসলাম আত্রাই থানা প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের জানান,গত এক সপ্তাহ আগে সুমনের স্ত্রী-স্বজনরা আমার কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ এবং নতুন কিছু তথ্য দেয়। এরপর মামলাটি আরো সুষ্ঠু তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা,থানার ওসিকে নিদের্শ দেয়া হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন হিসেবে শফিউলকে আটক করা হয়। তাকে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে হত্যার কথা সিকার করেন এবং সুমনের মরদেহ মাটিতে পুথে রাখার কথা জানান। শফিউলের দেয়া তথ্য মতে,শুক্রবার বিকেলে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতীতে কয়সা গ্রামের রমজান আলীর ডোবার পানি সেচে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সুমনের কংকাল উদ্ধার কর হয়। পুলিশ সুপার আরো জানান,শফিউল আলম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায় সুমন প্রামনিক শফিউলের স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং হাত ধরে টানাটানি করে। এই খবর জানার পর শফিউল এবং তার ছোট ভাই সাইম সুমনকে রাতে ডেকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যার পর মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখে। অবশ্য শফিউলের বাই সাইম বেশ কিছু দিন আগে আত্মহত্যা করেন। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানান,গ্রেফতার শফিউলকে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হাড়গোর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এঘটনার সাথে আর কেউ জরিত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।