ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে

জাপা নেতা মৃধার নির্বাচনী প্রচারণা

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
জাপা নেতা মৃধার নির্বাচনী প্রচারণা

নিজের জন্মভূমি গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নোয়াগাঁও থেকে প্রথম বারের মত নির্বাচনী প্রচারণা শুরূ করলেন মহাজোটের সাবেক এমপি ও জাপা নেতা এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। শতভাগ সমর্থন দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন নিজের গ্রাম ও ইউনিয়নবাসীর। জানালেন মিথ্যা মামলায় হয়রানির কোন শঙ্কা নেই নেতা কর্মীদের। ঘোষণা দিলেন বহিরাগত নয়, নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা যোগ্য ব্যক্তিকেই অভিভাবকত্ব দেওয়ার। জনগণের সেবার মাধ্যমেই জীবন কাটিয়ে গ্রামের মাটিতে শেষ ঠিকানা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন মৃধা। সমর্থন দিলেন গ্রামবাসী।  দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাজোটের সাবেক দুইবারের  এমপি জাপা নেতা এডভোকেট মৃধা ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর কিছুটা নীরব ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মামলার আসামীও হয়েছিলেন। টালমাটাল অবস্থায় ছিলেন তিনি ও তার দল জাতীয় পার্টি। সবশেষে মৃধাকে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) জাতীয় পার্টি মনোনয়ন দেন (লাঙ্গল)। দলীয় মনোনয়ন ক্রয় ও জমা দেয়ার পর নির্বাচনী মাঠে লড়াই করার বিষয়ে প্রথম দিকে একটু শঙ্কিত ছিলেন তিনি ও তাঁর দল। উনার মনোনয়নকে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ভোটের মাঠে ফিরে আসেন তারা। সর্বশেষ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করেই প্রচারণার কাজের সিদ্ধান্ত নেন। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে নিজ গ্রাম উপজেলার নোয়াগাঁও-এ সভা আহবান করেন মৃধা। নিজের ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের জাপা নেতৃবৃন্দ ও আশুগঞ্জের কয়েকজন নেতাও অংশ গ্রহণ করেন সভায়। ইউপি জাপা’র সভাপতি আলী নেওয়াজের সঞ্চালনায় গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি সাবেক শিক্ষক মো. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন গ্রামবাসী ও নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দুই মেয়াদে এমপি থাকাকালে মৃধার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রসংশা করে বলেন, নোয়াগাঁয়ের কৃতি সন্তান মৃধা। উনার নেতৃত্বে সরাইল আশুগঞ্জে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। বর্তমানে এই জনপদের মানুষ মৃধার অভাব অনুভব করছেন। উনার পর এখন পর্যন্ত এখানকার গ্রামীণ রাস্তা গুলো সংস্কার হচ্ছে না।  জীবনের শেষ সময়ে নোয়াগাঁও থেকেই মৃধার নির্বাচনের জোয়ার ও আওয়াজ তুলতে হবে। এই আওয়াজ ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র এলাকায়। ইনশাল্লাহ জয় উনারই হবে। মৃধা বলেন, অনেক জ্ঞানী গুণী কর্মকর্তা ও কীর্তিমান পুরূষের জন্ম হয়েছে এই গ্রামে। আমারও সময় হয়ে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থীর ছড়াছড়ি। সরাইল আশুগঞ্জে কী যোগ্য শিক্ষিত কর্মক্ষম অভিভাবক নেই? বরাবরই কী এই আসনের নেতৃত্ব বহিরাগত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিতে হবে? তাই জীবন সায়াহ্নে আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন চাই। আমি আমার গ্রাম ও ইউনিয়ন থেকে ৯৯ ভাগ ভোট আশা করি। হাত তুলে সমস্বরে চিৎকার দিয়ে সমর্থন জানান গ্রামবাসী। মৃধা বলেন, আমি মৃত্যুর পর আমার গ্রামের মাটিতেই মিশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি সবসময়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আপনাদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যেতে চাই। আজকের এই সভার মাধ্যমে আমার নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরূ করলাম। যেহেতু আমি বৈধ প্রার্থী আমার দলের নেতা কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে কোন সমস্যা নেই। এরপরও আমার কোন নেতা কর্মী নির্বাচনী কাজে বাধাগ্রস্ত বা কোন ধরণের সমস্যায় পড়লে আমরা সকলে সম্মিলিত ভাবে মোকাবেলা করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে