মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নারী শিক্ষক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। বিশেষ করে কিশোরী বয়সের শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কথা পুরুষ শিক্ষকদের কাছে খুলে বলতে না পারায় মানসিক ও শারীরিকভাবে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির আলী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বশেষ নারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন গত ১৬ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে একজনও নারী শিক্ষক নেই। বর্তমানে মোট ১৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও, নারী শিক্ষকের শূন্যতা পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মাসিককালীন সময়ে ছাত্রীদের নানা শারীরিক জটিলতা, অস্বস্তি, মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। এ সময় একজন অভিভাবকসুলভ নারী শিক্ষকের পরামর্শ ও সহানুভূতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও তা না পাওয়ায় অনেক ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না। কেউ কেউ লজ্জা ও সংকোচের কারণে সমস্যার কথা গোপন রেখে ক্লাসে বসেই কষ্ট সহ্য করছে। একাধিক ছাত্রী জানায়, ‘আমরা অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি, কিন্তু স্যারদের কাছে এসব কথা বলতে লজ্জা লাগে। একজন আপা থাকলে অনেক উপকার হতো।’ অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এতে মেয়েদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির আলী। প্রধান শিক্ষক জানান, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পত্র প্রেরণের জন্য সিলেটের আঞ্চলিক উপ-পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং গত বছরের ২১ মে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হলেও অদ্যাবধি স্কুলটিতে কোন নারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২-৩ জন নারী শিক্ষক থাকা অপরিহার্য। এতে ছাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সমর্থন ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জোর দাবি-অবিলম্বে বিদ্যালয়টিতে নারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্রীদের নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।