বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শায়েস্তাগঞ্জে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জনসভা হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের রাজনৈতিক চিত্রে দৃশ্যমান মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক স্থবিরতার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি দিকনির্দেশনা পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নতুন করে সংগঠিত ও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। এই জনসভার পর থেকেই গোটা আসনজুড়ে বিএনপির রাজনীতিতে স্পষ্ট গতি ফিরেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, চা বাগান ও কৃষক অধ্যুষিত এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শায়েস্তাগঞ্জের জনসভা শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়-এটি কার্যত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ক্ষমতার রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য গণঅভ্যুত্থানের বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার হরণ, দমননীতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোটাররা এই জনসভাকে ঘিরে নতুন করে সাহস ও প্রত্যাশা ফিরে পেয়েছেন। জনসভায় তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণ সমাজ বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এই জনসভা তরুণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে। হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে চা-শ্রমিকদের ভোট বরাবরই ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। শায়েস্তাগঞ্জের জনসভায় তারেক রহমান চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমান উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে ধরায় ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সুরমা চা বাগানের শ্রমিক দীপক রাজ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর অবহেলিত। তারেক রহমান আমাদের কথা বলেছেন। এবার আমরা সংগঠিতভাবে ধানের শীষে ভোট দিতে প্রস্তুত।” কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকরাও জনসভায় আশার বার্তা পেয়েছেন। সার, বীজ সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বাস্তবতা তুলে ধরে তারেক রহমান কৃষকদের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন। কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “এই সরকার কৃষকদের সর্বনাশ করেছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি-বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকের অধিকার ফিরে আসবে।” মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রবীণ ভোটার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা জারু মিয়া বলেন, “স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য দিতে হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করব।” এদিকে নির্বাচনী মাঠে এখন ধানের শীষের স্লোগানই মুখ্য আলোচ্য।জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান বলেন,তারেক রহমানের সফর আমাদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্জীবিত করেছে। এই আসনে ধানের শীষের জয় এখন সময়ের দাবি।” হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও মাধবপুর পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি বলেন-শায়েস্তাগঞ্জের জনসভা প্রমাণ করেছে-এই আসনে বিএনপি এখন শক্ত অবস্থানে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এস.এম.ফয়সরের ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শায়েস্তাগঞ্জের এই জনসভা হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে সুসংহত করেছে এবং ভোটের মাঠে ধানের শীষকে একটি শক্ত চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভোটারদের মধ্যে যে ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।