দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) টিকা সংকট ঝিনাইদহ হাসপাতাল গুলোতে। সদরসহ জেলার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে এ সরবরাহ নেই। চিকিৎসকেরা রোগীদের বাইরে থেকে টিকা সংগ্রহের পরামর্শ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলার ফার্মেসি গুলোতে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যক্তিগত ভাবে কিনে নিতে হচ্ছে রোগীদের, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে কবে ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে,সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বিগত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখ থেকে ফুরিয়ে যায় র্যাবিসের ভ্যাকসিন সরবরাহ। ফরে আর ভ্যাকসিন সরকারি ভাবে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে শরীরে প্রয়োগ করতে হচ্ছে রোগীদের। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগি ভ্যাকসিন নিতে আসেন। কিন্তু সরকারি সরবরাহ না থাকায় ২৭ তারিখের পর থেকেই বেসরকারি ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। হাসপাতালের মজুত শেষ হওয়ার দু-এক দিন পর থেকে জেলার ফার্মেসিতে আর মিলছে না ভ্যাকসিনটি। ফলে অনেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে যশোর, মেহেরপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে এনে শরীরে প্রয়োগ করছেন। জেলার অন্যান্য হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২৬ দিন নেই ভ্যাকসিনটির সরবরাহ। সম্প্রতি কালীগঞ্জে ২ দিনে ১৩ জনকে কুকুরে কামড় দিয়েছিল। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ জন রোগী আসেন এ ভ্যাকসিন নিতে।কোঁটচাদপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ মাসের বেশি সময় ধরে নেই সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২/৫ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ দিন ধরে নেই ভ্যাকসিনের সরবরাহ। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫/৭ জন রোগী আসেন সেবা নিতে।শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২০ দিন নেই সরকারি ভাবে বিনা মূল্যের ভ্যাকসিন সরবরাহ। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ জন রোগী আসেন ভ্যাকসিন নিতে।সরকারি ভাবে বরাদ্দ না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কিনে এনে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তাও খুবই কম বলে জানা গেছে। সদর হাসপাতালের টিকাদান কক্ষে কাজ করা উমায়ের হোসেন বলেন,প্রতিদিন অনেক রোগী আসছে। ভ্যাকসিন কিনে আনতে পারলে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেকেই ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।সদর হাসপাতালে টিকা নিতে আসা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমার ভাইকে কুকুরে কামড় দেয়, তৎক্ষনাৎ হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু হাসপাতালে টিকা নেই। শিহাব হোসেন নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন,শুধু সরকারী হাসপাতালই না, ফার্মেসী গুলোতে এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আশপাশের কয়েক জেলাতেও এই টিকার সংকট। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কুকুরে কামড় দেওয়া রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হবে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. মো: কামরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ থেকে হঠাৎ করে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে।