নাটোর-১ আসনে টিপুকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাদের ঐক্য

এফএনএস (এ.কে. আজাদ সেন্টু; লালপুর, নাটোর) :
| আপডেট: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম | প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
নাটোর-১ আসনে টিপুকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাদের ঐক্য

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত সহ দপ্তর সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুকে (কলস প্রতীক) বিজয়ী করতে লালপুরে বিএনপির সাবেক নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকার ঐতিহাসিক কড়ইতলা চত্বরে কলস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, “লালপুর-বাগাতিপাড়ার বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টুকরোয় বিভক্ত ছিল। এই খণ্ডিত বিএনপিকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে আমি রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাই। সেই প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু করেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছি, তারা কেউ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি কিংবা ৫ আগস্টের পরে বিএনপি শুরু করিনি। আমরা কারো হাত ধরে আসা বিএনপি নই, আমরা জন্মসূত্রে বিএনপি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করা বিএনপি আমরা নই। কোনো হুমকি-ধমকিতে আমরা ভয় পাই না।” টিপু বলেন, “আমরা বিভেদ চাই না, আমরা ঐক্য চাই। যারা লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষকে জেল খাটিয়েছে, ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমেই তার জবাব দেওয়া হবে। উপজেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এতদিন আমি একা লড়াই করেছি। আজ থেকে বিএনপির ভিত্তি স্থাপনকারী মুরব্বিরা আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।” ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা ভোটারদের বাধা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, আমরা তাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতে প্রতিহত করব।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, “১২ তারিখে বিজয়ী হয়ে আমরা হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করব। গত ১৭ বছরে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় একটি মিছিলও করতে পারেননি অনেকে। ভবিষ্যতে দলের সংকট মুহূর্তে আবারও আমরা রাজপথে থাকব।” নিজের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে টিপু বলেন “লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষকে জেল-জুলুম, নির্যাতন ও সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করতে দলের সহ দপ্তর সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়েছি। উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল, আজ আমার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই বরফ গলতে শুরু করেছে। যার যার প্রাপ্য সম্মান তাকে দেওয়া হবে, যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই সম্মান পাবে।” সভায় তিনি আরও বলেন,“নির্বাচনের জন্য ভাইকে পাগল, মাতাল বানানো হয়েছে, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পটল সাহেবের কবর পর্যন্ত দুই ভাগ করা হয়েছে। তবুও আমি লালপুর-বাগাতিপাড়ার বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে সম্মানের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাই। সামনে আরও চমক আছে।” গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে এবং আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আরিফুল ইসলাম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন-নাটোর জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মনজুরুল ইসলাম বিমল, বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও লালপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতিকুল্লাহ বিশ্বাস গ্যাদা, দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চাঁন মোহাম্মদ, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম, ওয়ালিয়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মৃধা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীরজাদ আলী, ওয়াহিদুজ্জামান সরকার, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুল হক টমি, গোপালপুর পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল খায়ের এ কে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মনসুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাইফুল ইসলাম টিপুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে