সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পতনের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেন শুরুর দিকে কিছুটা ইতিবাচক আভাস মিললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে যায়। ঢাকার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার তালিকায় চলে আসে। মাঝপথে কিছু শেয়ারের দর বাড়ায় সূচক সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হলেও শেষ দিকে বিক্রির চাপ বাড়ায় আবারও পতনে ফিরে আসে বাজার।
ডিএসই সূত্র জানায়, দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে। ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১৫ পয়েন্ট, নেমে এসেছে ১ হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে।
ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে, ২২৫টির দাম কমেছে এবং ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানির মধ্যে লভ্যাংশ প্রদানকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও এদিন চাপের মুখে পড়ে।
লেনদেনের পরিমাণেও এসেছে ভাটা। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৯ কোটি টাকার বেশি কম। লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে সোনালী পেপার ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও অ্যাপেক্স ইস্পিনিং।
ঢাকার বাজারের মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ছিল একই চিত্র। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩ পয়েন্ট। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে, ৭১টির কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারকে চাপের মুখে ফেলছে। তারা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে সময় লাগতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোতেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।