বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সাদ্দামের পরিবার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস জানান, “বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। সময় স্বল্পতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।”
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনও জানিয়েছেন, “শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে একজন বাংলোতে এসে একটি আবেদন রেখে গিয়েছিলেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমরা যশোর কারাগারকে জানিয়েছি। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু আসামি জেলার বাইরে বন্দি, তাই ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। আবেদনকারীদের বিষয়টি জানালে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
পারিবারিক পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর ২৩ জানুয়ারি লিখিত আবেদন করলেও যশোর জেলা প্রশাসন তা পাননি। ফলে আইনানুগ পদ্ধতি অনুসারে যশোর কারাগারে আবেদন করার সুযোগ হয়নি। পরে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে পৌঁছালে সাদ্দামের ছয়জন নিকট আত্মীয়কে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং তিন থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখা সম্ভব হয়।
পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেন। মরদেহ উদ্ধার হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে। জানাজা সম্পন্ন হয় শনিবার রাত সাড়ে ১০টায়, এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয় রাত ১২টায়।
যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি, যেখানে লেখা আছে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি বা বন্দির স্ত্রীকে কারাগারে দেখা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, কারা কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনায় মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, “যে কারাগারে আসামি বন্দি থাকে, প্যারোলে মুক্তির আবেদনও সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে করতে হয়। সাদ্দাম যশোর কারাগারে বন্দি, কিন্তু পরিবার প্রথমে বাগেরহাটে আবেদন করেছে। পরে তারা সময় স্বল্পতার কারণে আর আবেদন করেনি।”
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। কেউ মানবিক কারণে মুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছেন, কেউ আইনগত জটিলতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন যশোরে পৌঁছায়নি, তাই প্যারোলে মুক্তি সম্ভব হয়নি।