বাজিতপুরে বৈদ্যুতিক ও এসির তারসহ মিটার চুরির হিড়িক

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
বাজিতপুরে বৈদ্যুতিক ও এসির তারসহ মিটার চুরির হিড়িক

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার  পৌরশহরে বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার ও এসি'র তারসহ  মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক সপ্তাহে পৌর শহরের বাজার, আশেপাশের আবাসিক এলাকা ও মসজিদ মাদ্রাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার তার ও ৮ ৎেকে ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, উপজেলা এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে প্রশিক্ষিত চোর চক্রগুলো বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাসা বাড়ি থেকে সার্ভিস তার, মিটার, এবং ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে না। ফলে আবাসিক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এসি'র তার বেশীর ভাগ চুরি হচ্ছে সরকারী অফিস-আদালত,বাসাবাড়ি ও মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে। জনগণের প্রশ্ন বৈদ্যুতিক তার যারা চুরি করছে তারা অবশ্যই বিদ্যুতের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। কারণ খাম্বা থেকে  বৈদ্যুতিক তার চুরি করা সহজ বিষয় নয়, সাধারণ চোরদের দ্বারা এই বিপদজনক কাজ সম্ভবপর নয়। হয় এর সঙ্গে বিদ্যুত সংশ্লিষ্টরা জড়িত নতুবা একটি প্রশিক্ষিত  চোরচক্র। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ না করে নিজেরাই নতুন সংযোগ নেন, যা আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে।  বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির প্রশিক্ষিত চোর থ্রি-ফেজ মিটার চুরি করে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত এক মাসে ২০/২৫টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাজিতপুর  থানায় কয়েকটি চুরির মামলা হয়েছে। বাজিতপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিল-কারখানা ও কৃষকের আবাদি জমির গভীর নলকূপের থ্রি-ফেজের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করছে একদল প্রশিক্ষিত চোর। তারা মিটার চুরি করে মিটারের বোর্ডে মোবাইল নম্বর দিয়ে আসছে। ওই মোবাইল নম্বরে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিলে মিটার পাওয়া যাবে বলে জানিয়ে আসে তারা। এ ঘটনায় চলতি মাসে থানায় ১০টির অধিক চুরির মামলা হয়েছে। এর পরও চোররা থেমে নেই। প্রতি রাতেই তারা কারও না কারও তার ও মিটার চুরি করছে। পৌর শহরের বাসিন্দা মামুন জানায়, গত সপ্তাহে তার বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন থেকে সমস্ত বিদ্যুতের তার কেটে নিয়ে যায় চোরেরা। এতে তার প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। গত কয়েকদিন আগে পাগলারচর গ্রামের আঃ করিমের মিটার চুরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, চুরি হওয়া মিটার না নিয়ে নতুন করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মিটার নিলে সে মিটারও পরদিন চুরি করে নিয়ে যায় চোররা। তবে চোরের দেওয়া মোবাইল নম্বরে টাকা দিলে চুরি হওয়া মিটার আশপাশেই পাওয়া যায়। আর চুরিও হয় না। বাজিতপুর বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী বলেন, মিল-কারখানার থ্রি-ফেজ মিটার, বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী জনগণের মতো আমরাও উদ্বিগ্ন। প্রতিটি চুরির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বাজিতপুর থানার থানা ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, চোরের লিখে যাওয়া মোবাইল নম্বর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান চলছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিটার সংরক্ষণে সতর্ক দৃষ্টিসহ আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে