লক্ষ্ণীপুরে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও শিল্পখাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ্ণীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত এই জব ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী ১০টি প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়ে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী শহরের বাইশমারা এলাকার লক্ষ্ণীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস মাঠে এসেট প্রকল্পের অর্থায়নে এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। লক্ষ্ণীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রদীপ্ত খীসার সভাপতিত্বে বেলুন উড়িয়ে জব ফেয়ারের উদ্বোধন করেন লক্ষ্ণীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউছুফ। পরে তিনি অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ ও জব ফেয়ার কো-অর্ডিনেটর দেবব্রত কুমার নাথ, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, বিসিক শিল্পনগরী লক্ষ্ণীপুরের উপব্যবস্থাপক ফজলুল করিমসহ শিক্ষা ও শিল্পখাতের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। জব ফেয়ারে বিল্ডিং ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটেন্ট, হোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি, এএমআর আর্কিটেক্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, বিডি কলিং আইটি, এনজিএস সিমেন্টসহ মোট ১০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি সিভি জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. ইউছুফ বলেন,জব ফেয়ার একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকরা কর্মমুখী হবে এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।” সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রদীপ্ত খীসা বলেন,পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করাই এই জব ফেয়ারের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে।” জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া সিভিল টেকনোলজির শিক্ষার্থী রাফি ইসলাম বলেন, আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই জব ফেয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অনেক সহায়ক।”ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন,শুধু সিভি জমা নয়, এখানে আমরা জানতে পারছি শিল্পখাতে কী ধরনের দক্ষতা দরকার। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে। কম্পিউটার টেকনোলজির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন,পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য এই জব ফেয়ার আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।