বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা ভয়াবহ সংকটে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের মধ্যেও অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি।”
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যখন শেখ হাসিনা তার প্রবল প্রতাপ দিয়ে বিরোধীদল নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচির ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যে, আমরা দলীয় বা এমনকি সামাজিক কোনো কাজও করতে পারতাম না। আমাদের সামাজিক সেবামূলক কাজগুলোতেও পুলিশ এসে বাধা দিত। কিন্তু তারপরও আমরা সেই কাজগুলো করে গেছি। গত ১৫-১৬ বছরের অন্যায় শাসনামলের সময় করোনা, বন্যা কিংবা প্রচণ্ড শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি কোনো বছরই আমাদের বাদ যায়নি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এখনও করছি। যদিও হাসিনার পতন হয়েছে, তবুও সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ কখনোই সরে যায়নি।”
ড্যাবের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবও প্রতি বছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। বিএনপি ও তার আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো, বড় বড় কথা বা ফাঁকা বক্তৃতা নয়, কাউকে হেয় করা নয়, ভিডিও ভাইরাল করে চরিত্র হনন নয়। আমরা এসব কখনোই করি না। আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখবেন কারা ভিডিও ভাইরাল করছে, কারা কুৎসা রটাচ্ছে, সেটা জনগণ বোঝে। বিএনপির ক্ষেত্রে এ সব দেখবেন না। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছে।”
বিএনপির এ নেতা বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটাই জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় বৈশিষ্ট্য। আমরা কারও প্রতি বিষোদগার করি না, কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাই না। আমরা বিশ্বাস করি- রাজনীতি মানেই সমাজসেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণ সাধন।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আপনারা দেখেছেন দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি মেনেই অংশ নিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা। ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের প্রবল আক্রমণের মুখে তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আইন করে তার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, তার বক্তব্য যেন দেশে প্রচার না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।”