বরিশালের নদীবেষ্টিত এলাকায় নির্বাচনের আমেজ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
বরিশালের নদীবেষ্টিত এলাকায় নির্বাচনের আমেজ

বরিশালের মেঘনা, কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীঘেরা দুইটি উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ।  সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত এ দুই উপজেলা ও প্রশাসনিক থানা কাজিরহাট নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৪২ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৩০ জন। এ আসনের অধিকাংশ ভোটার প্রান্তিক শ্রেণীর। যারা পেশায় শ্রমিক। তাদের মধ্যে জেলে শ্রমিক উল্লেখযোগ্য।  সরেজমিনে নদীবেষ্টিত এ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক শ্রমজীবি ভোটারদের সাথে আলাপ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই দূর্গম এলাকায় দেখা গেছে ভিন্নরকম উৎসাহ উদ্দীপনা। নিজেদেরকে সবচেয়ে অহেলিত জনপদের মানুষ দাবি করে তারা আগামী নির্বাচনকে উন্নয়নের সোপান হিসেবে দেখতে চায়। মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার মোটরসাইকেল চালক ইয়ামিন হোসেন বলেন, এবার জীবনের প্রথম ভোট দিবো। এর আগে আমি কোনদিন ভোট দিতে পারিনি। তাই এবার ইসলামের পক্ষে একটি ভোট দিয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে চাই। উলানিয়ার হাসানপুরের পেশাদার জেলে রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিগতদিনে আমরা অনেক সরকার দেখেছি।  চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতি থেকে রেহাই মেলেনি। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীকে কোন অপকর্মে লিপ্ত হতে দেখিনি। তাই মনে করি তারা ক্ষমতায় গেলেও এভাবেই সততার সাথে দেশ চালাবে। এজন্য আমাদের এবারের পছন্দ জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা। শ্রীপুর ইউনিয়েনের কাঠমিস্ত্রি রাজিব হোসেন বলেন, সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাই। জাঙ্গালিয়ার কৃষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, অনেক দল দেখেছি তারা আমাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাই এবার আমাদের পছন্দ দাঁড়িপাল্লা। চরগোপালপুরের দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, অনেক দল  দেখছি তারা গরিবের হক মেরে খায়, তাই এবার ভোট দিমু দাঁড়িপাল্লায়। চরএকরিয়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আর চাঁদাবাজি দেখতে চাইনা তাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিমু। উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের সফুরান বিবি বলেন, বহুত দলেরে আগে দিয়া দেখছি। এবার জামায়াত চাই। আমরা স্ব-পরিবারে এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবো। এইজন্য আমরা কেন্দ্রে গিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চাই। উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাটের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে প্রায় একইচিত্র দেখা গেছে। তবে কোন কোন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের প্রভাব কম পাওয়া গেলেও নেতাকর্মীরা অনেকটা আত্মবিশ্বাসী। তাদের ধারনা, এবার একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মনের মধ্যে ঝুঁক এসেছে। সেই জোয়ার বিপুলভোটে তারা বিজয়ী হতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। বরিশাল-৪ আসনের এগারো দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, এই দুটি উপজেলা সবচেয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত। ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য রয়েছে দুই উপজেলায় একটি করে ৫০ শয্যার হাসপাতাল। অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আরও বলেন-ইতিপূর্বে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। ফলে এবার জনগণ ঘুরে দ্বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এসব অনিয়ম-জুলমের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ দিবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে