আতঙ্ক কাটছে না এলাকায়

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলায় আরও গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলায় আরও গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্ত এগোচ্ছে। এই মামলায় আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচিত এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

র‍্যাব-৭ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. মিজান এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) একই মামলার আরেক আসামি কালা বাচ্চুকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এক নম্বর সমাজের বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রশাসনিকভাবে জঙ্গল সলিমপুর সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে যেতে হয় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। প্রায় তিন হাজার ১০০ একর খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা এই পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বসতি, পাহাড় কাটা এবং প্লট বাণিজ্যের কারণে একটি দুর্বৃত্তচক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটিতে সশস্ত্র পাহারা এবং প্রভাবশালী গ্রুপগুলোর আধিপত্যের অভিযোগ নতুন নয়।

এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে। সেদিন জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গেলে র‍্যাব-৭ এর একটি টিমের গাড়ির গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিন সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তার মরদেহ কুমিল্লায় নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) র‍্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা মো. জসিম বলেন, “এলাকায় আমরা সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকি। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই, এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না।”

পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড সেই সহিংস বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে