আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো ভোট বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত সাড়ে ২১ হাজারের বেশি প্রবাসী ভোটারের পোস্টাল ব্যালট দেশে এসে পৌঁছেছে, যা প্রবাসী ভোট কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের ওসিভি এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৫০৮টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি, যা আমাদের ডিজিটাল উদ্যোগের সফলতা তুলে ধরে।”
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন প্রবাসী ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোট প্রদান করেছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন। ভোট দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা পড়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২টি ব্যালট।
কমিশন জানিয়েছে, যারা ব্যালট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত ভোট দিয়ে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছানো ব্যালটই কেবল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসা কোনো ব্যালট গণনা করা হবে না।
এবারই প্রথম ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার নিবন্ধন করেছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এর অর্ধেকের বেশি প্রবাসী ভোটার। প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এই ব্যবস্থার আওতায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও সহজ প্রক্রিয়ার কারণে প্রবাসীদের ভোটে অংশগ্রহণ এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বৈধ ব্যালট দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই সাধারণ ভোটের পাশাপাশি ডাকযোগে আসা প্রবাসী ও অন্যান্য ভোটারদের ব্যালট গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।