শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত ১

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত ১

শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২) মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাতে তিনি মারা যান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন  জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. নুরুজ্জামান বাদল । মাওলানা রেজাউল করিমের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আজ রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন। এদিকে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা তাহেরুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । রাত ১০ টার দিকে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় । ঝিনাইগাতীতে বিকালের সংঘর্ষের ওই ঘটনায় হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে জামায়াত ও বিএনপি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ সময় দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। রেজাউল করিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা বিলম্বে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে বাক বিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের উপর বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা করে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, উগ্রবাদী, জঙ্গি জামায়াতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। শেরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর কথা শুনেছি। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে