শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার

শেরপুরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাতে গুরুতর আহত হন জামায়াত শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “শেরপুরে যা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানগুলোতে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করা আবশ্যক। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নেতা রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রশাসনের অবহেলা যেন পুনরায় ঘটতে না পারে।” বিএনপি ও জামায়াতসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ‘দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং সমর্থকদের সংযম নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ইসি সচিব আরও জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাংবাদিকদের পাশ কার্ড নতুনভাবে অনলাইনে আবেদন করার প্রয়োজন নেই, বাকিদের আবেদন সরাসরি নেওয়া হবে। এছাড়া, ৮ ফেব্রুয়ারির পর কেউ প্রার্থীতা ফিরে পেলেও পোস্টাল ব্যালটে তাদের নাম ও প্রতীক থাকবে না।

শেরপুরে এই হত্যাকাণ্ড ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে