গৃহকর্মী সেজে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। এরা বিভিন্ন অনলাইনে টার্গেট করা রাজধানীর বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী দিতে মরিয়া। বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ করে প্রতারকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীতে এরকম শতাধিক ভয়ঙ্কর গৃহকর্মী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরা বাসাবাড়িতে মালামাল লুট করতে কাউকে খুন করতে দ্বিধা করে না। গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাসাবাড়ির তথ্য সংগ্রহ করছে এসব সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তাদের সহায়তা করছে বিভিন্ন বাসার দারোয়ান ও কেয়ারটেকাররা। রাজধানীর অনেক ব্যস্ত মানুষ গৃহকর্মী দিয়ে তাদের বাসার ঘর মোছা, রান্নাবান্না ও স্বজনকে দেখাশোনার কাজ করান। এ ছাড়াও অনেকে তাদের সন্তানকে স্কুলে নেয়া ও আনার কাজটিও গৃহকর্মীর মাধ্যমেই করান। কিন্তু এসব সেবা নিতে গিয়ে গৃহকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য নেয়া কিংবা তার ওপর নজর রাখার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা অনেকে খেয়াল করতে পারেন না। এই সুযোগে গৃহকর্মীরা বাসায় অপরাধে লিপ্ত হয়ে সহজেই পালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধে জড়িতরা গৃহকর্মী হিসেবে অল্প সময়ের জন্য একাধিক বাসায় কাজ নেয়। কোথায় সিসি ক্যামেরা নেই, কোন বাসা দিনের বড় সময় ফাঁকা থাকে, শিশু বা বৃদ্ধ কারা থাকেন- এসব তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সংঘটিত হচ্ছে খুন, চুরি ও পরিকল্পিত লুটপাট। ২০২০ সালে মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যা মামলার রায়ে আদালত গৃহকর্মী নিয়োগে ৬ দফা নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগের প্রথম ৯০ দিন সতর্ক পর্যবেক্ষণ, গৃহকর্মীর জীবনবৃত্তান্ত ও ছবি থানায় জমা, বাসার মূল প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গৃহকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং নিবন্ধিত গৃহকর্মীদের তথ্য থানায় সংরক্ষণ। কিন্তু অনেকে আদালতের এসব নির্দেশনা না মেনেই গৃহকর্মী নিয়োগ দেন। এ ছাড়াও ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গৃহকর্মী নিয়োগে ১৪ দফা নির্দেশনা জারি করে। ডিএমপির নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, গৃহকর্মী নিয়োগের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, সদ্য তোলা ছবি, শনাক্তকারী ব্যক্তি ও তার পরিচয় সংগ্রহ করা, পূর্ব কর্মস্থল ও কাজ ছাড়ার কারণ যাচাই, নিয়োগের পর গৃহকর্মীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, বাসার প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মূল্যবান জিনিস গোপন রাখা, শিশুদের একা না রাখা, সন্দেহজনক আচরণ নজরে রাখা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশনার মতো ডিএমপির এসব নির্দেশনাও অনেকে জানেন না। জানা থাকলেও অনেকে মানেন না। ফলে গৃহকর্মী সংশ্লিষ্ট অপরাধ চলছেই। খুন, চুরি ও পরিকল্পিত প্রতারণা থেকে নগরবাসীকে রেহাই পেতে হলে আদালতের আদেশ ও পুলিশের নির্দেশনা মানতে হবে। সবাইকে আরও অধিক সতর্ক হতে হবে।